অপেক্ষা এখন হাইকোর্টের নির্দেশের; পুজোর আগেই নিয়োগ করবে কমিশন। #Exclusive

অপেক্ষা এখন হাইকোর্টের নির্দেশের; পুজোর আগেই নিয়োগ করবে কমিশন। #Exclusive

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অপেক্ষা এখন হাইকোর্টের নির্দেশের; পুজোর আগেই নিয়োগ করবে কমিশন। একদিকে যখন নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা চলছে তখন অন্যদিকে খোদ রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের সদর দফতরে হানা দিল করোনা ভাইরাস। রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের সদর দফতরে কর্মরত ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে ২ জন নিরাপত্তারক্ষী এবং একজন ক্লার্ক। ২ জন নিরাপত্তারক্ষী বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্ভূক্ত। কমিশনের অন্দরমহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এই খবর আসার পর। কারন যে কর্মী(ক্লার্ক) আক্রান্ত হয়েছেন তিনি স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রায় সব কর্মীর সাথেই ওঠাবসা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ করোনার দুর্বার গতি রাজ্যে, সাথে মৃত্যুমিছিলে সামিল ২ হাজার ৫ জন!

ফলে চরম আতঙ্কে রয়েছেন সবাই। ৩জন আক্রান্ত হওয়ার খবর আসার পরেই হুলুস্থুল পরে যায় কমিশোনের অফিস জুড়ে। শুরু হয় স্যানিটাইজেশনের কাজ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত বিল্ডিং কে স্যানিটাইজ করা হয়েছে। কর্মরতদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এদিকে সোমবার অফিস খোলার কথা থাকলেও এই অবস্থায় করজন অফিস আসবেন ট্যাঁ নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিসেও হানা দিয়েছে মারাত্মক ভাইরাস কোভিড ১৯। আক্রান্ত হয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এক আধিকারিক। তিনি আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে শুক্রবার। পর্ষদের ৪তলায় বসতেন এই আধিকারিক। সেই কারনে বিল্ডিং এর চতুর্থ তল সম্পুর্ণ স্যানিটাইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন কে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিস।

অপেক্ষা এখন হাইকোর্টের নির্দেশের; পুজোর আগেই নিয়োগ করবে কমিশন। পুজোর আগে উচ্চপ্রাথমিকে নিয়োগের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিল কমিশন। আজ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ৩ কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার সময় নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সূত্র জানায় একথা। সূত্র জানিয়েছে পুজোর আগে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত ছিল কিন্তু। মেরিট লিস্টে অসঙ্গতির কারন দেখিয়ে কয়েকটি মামলা হওয়ায় সেগুলি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ করা যাচ্ছেনা। সূত্র কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন শিক্ষামন্ত্রী আগেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা করা হচ্ছে আদালতের রায় আসার জন্যে।

সূত্র কে নজরবন্দির তরফে জানতে চাওয়া হয় যদি আদালতের রায় মামলাকারীদের পক্ষে যায় সেক্ষেত্রে সেই রায় কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার অন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিনা। সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও সূত্র বুঝিয়ে দিয়েছেন পুজোর আগে নিয়োগ করাই তাঁদের লক্ষ্য, অপেক্ষা শুধুমাত্র আদালতের চূড়ান্ত রায়ের। এদিকে গতকাল কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি পর্বে আদালত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। মামলায় কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগের অনুমতি চাইলে মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, ফিরদৌস শামিম, সুবীর সান্যাল এবং দিব্যেন্দু চ্যাটার্জিরা কমিশনের তীব্র বিরোধিতা করেন।

তারা আদালতকে জানান কোনো ভাবেই গরমিল থাকা মেরিটলিস্টে যোগ্যদের বঞ্চিত করে কমিশন অযোগ্যদের নিয়োগ করতে পারে না। সুনির্দিষ্ট যোগ্যতামান থাকা সত্ত্বেও ভেরিফিকেশনে ডাক পায়নি অনেক চাকরি প্রার্থী। অথচ মেরিট লিস্টে এমন অনেক পরিক্ষার্থীই রয়েছেন যাদের কোনো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা নেই। সবকিছু শোনার পর বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য কমিশনের আর্জিকে খারিজ করে বলেন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হবে না। আজ পর্যন্ত মেরিটলিস্টে কি সংশোধন আনা হয়েছে কমিশনের কাছ থেকে তার তথ্যও দেখতে চায় উচ্চ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x