যুবভারতী নিয়ে প্রতিবাদের ‘ঝড়’ চেয়েছিলেন শুভেন্দুরা—মুখ্যমন্ত্রীর ‘ঝোড়ো ব্যাটিং’-এ থমকে গেল BJP-র কৌশল

যুবভারতী-কাণ্ডে একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপে বিরোধীদের ভাষ্য কেড়ে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ম্লান হল বিজেপির আন্দোলনের তেজ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে যে তীব্র সংঘাতের ছবি দেখা যাবে—এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু এক সপ্তাহ ঘোরার আগেই সেই উত্তাপ অনেকটাই স্তিমিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপই বিরোধী বিজেপির আন্দোলনের জমি কার্যত কেড়ে নিয়েছে।

ঘটনার পরপরই প্রকাশ্যে দর্শক ও মেসির কাছে ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার বা তৃণমূল সরাসরি আয়োজক না হলেও এই ক্ষমাপ্রার্থনা ছিল নজিরবিহীন। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে তিনি প্রথম ধাক্কাই দেন বিরোধীদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক আক্রমণে। বিজেপি সেই মুহূর্তে একে ‘লোকদেখানো’ বলে আক্রমণ শুরু করলেও, ঘটনার পরবর্তী কয়েক দিনে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

এর পরপরই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্রীড়া দফতর থেকে অরূপ বিশ্বাসের অব্যাহতি, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বিধাননগর পুলিশের কমিশনারকে শোকজ়, এক ডেপুটি কমিশনারের সাসপেনশন, ক্রীড়াসচিব ও যুবভারতীর সিইও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সবশেষে সিনিয়র আইপিএসদের নিয়ে ‘সিট’ গঠন—সব মিলিয়ে চার দিনের মধ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড় বার্তা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলির ফলে বিজেপির বহুদিনের চেনা আন্দোলনের স্ক্রিপ্ট কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষিতেই বুধবার আচমকা যুবভারতীর গেটে হাজির হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির বিধায়কেরা। মাঠে ঢুকতে না পারলেও তাঁরা বিক্ষোভ দেখান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং গ্রেফতারির স্লোগান তোলেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিক্ষোভে নতুন কোনও দাবির সংযোজন ছিল না। যে পদক্ষেপগুলির দাবি বিজেপি শুরু থেকেই তুলছিল, তার প্রায় সবটাই ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ভাবে হয়ে গিয়েছে।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “একটা বাজে ঘটনা ঘটেছে, আমরা নিন্দা করেছি, ক্ষমা চাওয়া হয়েছে, তদন্ত হয়েছে, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপর বিজেপির আর কী বলার আছে?” দলীয় সূত্রে দাবি, সিপিএম বা বিজেপি আমলে এমন ঘটনায় এত দ্রুত ও বহুমুখী পদক্ষেপের নজির নেই।

ঘটনার মাঝেই দিল্লি থেকে ফিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, যুবভারতীর ঘটনায় কেউ রেয়াত পাবে না। আয়োজক হোক বা প্রশাসন—সব পক্ষকেই জবাবদিহি করতে হবে। এই বক্তব্যে শাসক শিবিরের অবস্থান আরও শক্ত হয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

বিজেপি অবশ্য বলছে, তারা রাজনৈতিক লাভের হিসেব কষছে না। দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, এই সব পদক্ষেপ ‘প্রসাধনী’ মাত্র। তবে দলের অন্দরেই স্বীকারোক্তি, এই মুহূর্তে আন্দোলনের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার বিজেপি যুবমোর্চার কর্মসূচি থাকলেও, সেটি কতটা নতুন রাজনৈতিক ঢেউ তুলতে পারবে—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সব মিলিয়ে যুবভারতী-কাণ্ডকে ঘিরে রাজনীতিতে যে ঝড় ওঠার কথা ছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর ‘ঝোড়ো ব্যাটিং’-এ অনেকটাই প্রশমিত—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের। বিরোধীদের প্রতিবাদ পুরোপুরি শেষ না হলেও, এখন প্রশ্ন একটাই—এই ইস্যুতে বিজেপি কি নতুন কোনও রাজনৈতিক অস্ত্র খুঁজে পাবে, না কি বিষয়টি ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাবে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন