যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে। এ বার বিজেপির দিকে সরাসরি চক্রান্তের ইঙ্গিত করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, কলকাতাকে কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
শনিবার ঘটনার পর থেকেই যুবভারতী স্টেডিয়ামের ভিতরে গেরুয়া পতাকার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুণাল ঘোষ। সেই সূত্র ধরেই রবিবার তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। কুণালের বক্তব্য, এই ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি আয়োজকের কোনও যোগসূত্র বিজেপি-শাসিত রাজ্য বা কেন্দ্রের সঙ্গে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
কুণাল ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তাই এই মুহূর্তে ঘটনাক্রম নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন। তবে তাঁর মতে, তদন্তের পরিসর যেন শুধু মাঠের ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে।

তাঁর প্রশ্ন, “কলকাতার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অন্য কোনও জায়গা থেকে সুতো টানা হয়েছিল কি না, সেটাও কি খতিয়ে দেখা হবে না? এই বেসরকারি আয়োজকের সঙ্গে দিল্লির কোনও চক্রান্তকারীর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটাও তদন্তের বিষয় হতে পারে।”
এখানেই থামেননি তৃণমূল নেতা। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়া ভাঙচুরের দায় কার, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্টেডিয়াম মেরামতির খরচ কেন সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হবে। তাঁর মতে, যাঁদের গাফিলতি বা ভূমিকার কারণে ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা উচিত।
সোশাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে কুণাল ঘোষ আরও দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানের সময় যাঁরা মাঠের মধ্যে ঢুকে মেসির সঙ্গে ছবি তুলছিলেন বা নিজেদের ছবি তোলাচ্ছিলেন, তাঁদের সকলকে ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হোক। তাঁরা কোন পরিচয়ে মাঠে ছিলেন, কোন অনুমতিতে প্রবেশ করেছিলেন—সব তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, গ্যালারি ও মাঠে ভাঙচুর চালানো ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে জরিমানা আদায়ের দাবি তুলেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, প্রভাবশালী হোক বা সাধারণ—কেউই যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে।
যুবভারতী কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং রাজনৈতিক অভিযোগের স্তর পর্যন্ত তা বিস্তৃত হয় কি না, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



