সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক তাণ্ডবের ঘটনা নিয়ে এ বার সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আগামী সোমবারের মধ্যে রাজ্যকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
গত শনিবার ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। অভিযোগ, মাঠে প্রবেশের পর প্রায় ২০ মিনিট মেসিকে ঘিরে ছিল একটি জটলা। সেই কারণে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকদের একাংশ মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। তার জেরেই উত্তেজনা ছড়ায় এবং মেসি স্টেডিয়াম ছাড়ার পর শুরু হয় ভাঙচুর।


তিন জনস্বার্থ মামলা, কিন্তু শুনানি পিছোল
এই ঘটনায় তিনটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার মামলাগুলি ওঠে ডিভিশন বেঞ্চে। তবে রাজ্যের পক্ষে মামলাগুলি লড়ছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সে দিন সুপ্রিম কোর্টে অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় রাজ্যের তরফে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
আদালত রাজ্যের আবেদন মেনে তিনটি মামলার শুনানি আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। তবে একই সঙ্গে বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, শুনানি পিছোলেও রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দিতেই হবে।
রাজ্য গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই মামলাগুলির মধ্যে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে রাজ্য সরকারের গঠিত অনুসন্ধান কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। মামলাকারীদের বক্তব্য, রাজ্যের তৈরি এই কমিটির তদন্ত করার আইনগত ক্ষমতা নেই এবং সঠিক তদন্তের জন্য পৃথক ও স্বাধীন কমিটি প্রয়োজন।


বর্তমানে রাজ্যের গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। কমিটিতে আরও রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
আদালতের নজরদারিতে তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি
তৃতীয় জনস্বার্থ মামলাটিতে আবেদনকারী আদালতের সরাসরি নজরদারিতে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত বলেও দাবি তোলা হয়েছে। মামলাটিতে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে ইডি ও সিবিআই তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
এই তিনটি মামলাই বৃহস্পতিবার শুনানির তালিকায় থাকলেও, রাজ্যের আবেদনে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার রিপোর্ট জমা পড়ার পরই মামলাগুলির ভবিষ্যৎ শুনানির দিশা স্পষ্ট হবে, বলে মনে করছে আইন মহল।







