যুবভারতী কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ, শতদ্রু দত্তর অ্যাকাউন্ট থেকে ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত, ক্ষতিপূরণ নিয়েই প্রশ্ন

এসআইটি টিকিট বিক্রির টাকা ট্রান্সফার বন্ধ করল; উদ্ধার নথির ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেনে নজরদারি, দায় নিয়ে রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল উদ্যোক্তার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত-র একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে মোট প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, টিকিট বিক্রির টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢোকা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রিষড়ার বাড়িতে তল্লাশি, উদ্ধার নথি

এসআইটির দাবি, এক দিন আগে শতদ্রু দত্তর রিষড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মেসির অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একাধিক নথি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্যাঙ্ক লেনদেনের কাগজপত্র ও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত দলিল। সেই নথি খতিয়ে দেখার পরেই আর্থিক লেনদেন ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনার দিন যুবভারতীতে যে টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তার মোট মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই অর্থ যাতে কোনওভাবেই শতদ্রু দত্তর অ্যাকাউন্টে না যায়, সে জন্য টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা তৃতীয় পক্ষের সংস্থাকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছে এসআইটি।

ক্ষতিপূরণের ইঙ্গিত

সূত্রের খবর, টিকিট বিক্রির এই অর্থ ভবিষ্যতে যুবভারতী কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে পুলিশ।

উদ্যোক্তার পাল্টা দাবি

বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা শতদ্রু দত্ত অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানের দিন যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার জন্য তিনি একা দায়ী নন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

জেরার সময়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, পাস ও অ্যাক্সেস কার্ড বিলির ক্ষেত্রে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপ ছিল। সেই কারণেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অর্থাৎ, যেখানে রাজ্য সরকারের একাংশ গোটা ঘটনার দায় বেসরকারি আয়োজকের উপর চাপাচ্ছে, সেখানে শতদ্রু দত্ত পাল্টা রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

তদন্ত কোন পথে?

এসআইটি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাজেয়াপ্ত অর্থ ও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে। পাশাপাশি, দর্শকদের টাকা ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—সেই প্রশ্নের উত্তরও আদালতের নির্দেশ ও তদন্ত রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে।

যুবভারতী কাণ্ডে আর্থিক অনিয়ম, নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক ভূমিকা—সব মিলিয়ে এই মামলার তদন্ত যে আরও গভীরে যেতে চলেছে, তা এখনই স্পষ্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন