যুবসাথী প্রকল্পে ২০২৬ সালের আবেদনে বড় পরিবর্তন—এবার বাড়িতে বসেই অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ। অফলাইন ক্যাম্পের ভিড় এড়িয়ে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রিসিভ কপি পাওয়ার সুবিধায় অনলাইন পদ্ধতিকেই এগিয়ে রাখছেন অনেক আবেদনকারী। তবে দুই ব্যবস্থাই খোলা—কোনটি আপনার জন্য বেশি সুবিধাজনক, তা নির্ভর করছে সচেতনতা ও প্রস্তুতির উপর।
ডিজিটাল সুবিধা: কেন অনলাইন এগিয়ে?
রাজ্য সরকারের তরফে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পথই চালু থাকলেও নির্দেশিকা বলছে, অনলাইন পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও নিরাপদ।


তাৎক্ষণিক রেজিস্ট্রেশন:
ফর্ম সাবমিট করলেই রিসিভ কপি ও দুয়ারে সরকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়। অফলাইনে ক্যাম্পে জমা না দেওয়া পর্যন্ত সেই নম্বর মেলে না।
ঝুঁকি কম:
কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। সরাসরি পোর্টালে তথ্য সংরক্ষিত হয়। লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কিও এড়ানো যায়।
যোগ্যতা ও বয়সসীমা: আগে নিশ্চিত হোন
-
আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
-
বয়স ১ এপ্রিল ২০২৬ অনুযায়ী ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
-
আবেদনকারী বেকার হতে হবে।
-
অন্য সরকারি ভাতা (স্কলারশিপ ছাড়া) গ্রহণ করলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
ভুল তথ্য দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
অনলাইন আবেদন: ধাপে ধাপে
১️) রেজিস্ট্রেশন: মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশন, তারপর মাধ্যমিকের নথি অনুযায়ী নাম ও আধার নম্বর।
২️) ব্যক্তিগত তথ্য: জন্মতারিখ, লিঙ্গ, কাস্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট নম্বরসহ), পারিবারিক তথ্য।
৩️) ঠিকানা ও শিক্ষা: জেলা-ব্লক-গ্রাম নির্বাচন; মাধ্যমিকের বোর্ড, সাল, রোল নম্বর; বর্তমান পেশা উল্লেখ।
৪️) ডকুমেন্ট আপলোড: ৫০ কেবির মধ্যে ছবি ও সই, ৩০০ কেবির মধ্যে প্রয়োজনীয় নথির পিডিএফ।
অফলাইন পদ্ধতি: কোথায় বেশি সতর্কতা প্রয়োজন?
যাঁরা ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করবেন, তাঁদের কয়েকটি নিয়ম মানতেই হবে—
-
ফর্ম ইংরেজি ‘Capital Letters’-এ নীল বা কালো কালিতে পূরণ করতে হবে।
-
নির্দিষ্ট স্থানে রঙিন ছবি লাগিয়ে তার ওপর আড়াআড়ি সই করতে হবে।
-
দুয়ারে সরকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ বাধ্যতামূলক।
-
পেশার ঘরে বাস্তব তথ্য লিখতে হবে; অস্পষ্টতা এড়ানো জরুরি।
জমা দেওয়ার পর সই-সিলসহ Acknowledgement Slip সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
-
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়স প্রমাণ)
-
মাধ্যমিকের মার্কশিট/সার্টিফিকেট
-
আধার ও ভোটার কার্ড
-
ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতা বা ক্যানসেল চেক
-
কাস্ট সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য হলে)
সব মিলিয়ে, অনলাইন পদ্ধতি দ্রুত ও স্বচ্ছ হলেও অফলাইন পথও খোলা। তবে যে পথই বেছে নিন, তথ্যের নির্ভুলতা ও নথিপত্রের সঠিকতা নিশ্চিত করাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
আপনি কি আবেদন করতে পারবেন? বয়সের মাপকাঠি দেখে নিন সঠিক ক্যালকুলেটরে। এখানে দেখুন









