রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ায় সাংসদ পদ খোয়াতে হয়েছে। আশা ছিল, লোকসভা নির্বাচনে হয়তো দল তাঁকে টিকিট দেবে। কিন্তু সেখানেও শিকেয় ছিঁড়ল না। তাতে অভিমান প্রকাশ পেয়েছিল শান্তনু সেনের। কয়েকদিন আগেই বাংলার দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে শাসক শিবির, সেখানেও নাম ছিল না তাঁর, এনিয়ে ফের একবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শান্তনু সেন (Santanu Sen)। তবে কি এবার দলবদল? জবাব দিলেন তিনি নিজেই।

গত ১০ মার্চ ব্রিগেডে জনগর্জন সভা থেকে লোকসভা নির্বাচনের (Loksabha Election) ৪২ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল। এরপরই রাজ্যসভা ও লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন সেকথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন। শান্তনু সেন বলেছিলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আমাকে ২০১৮ সালে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। আমি প্রাণ পাত করে কাজ্জ করেছি দলের হয়ে। বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। দলের নির্দেশ পালন করে এসেছি।’ আরও বলেছিলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতি যেহেতু মন দিয়ে করেছি তাই মনে করেছিলাম লোকসভায় জায়গা হতে পারে। কিছুটা খারাপ লেগেছে না হওয়ায়। তবে মনে যতই কষ্ট থাক দলের নির্দেশ মেনে কাজ করব।’ সেইসময়েই দলবদলের জল্পনা খারিজ করে দিয়েছিলেন শান্তনু সেন।

লোকসভা নির্বাচনের সাথেই বাংলায় দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন (By Election)। গত শুক্রবার দুই কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। তাপস রায়ের (Tapas Roy) ছেড়ে যাওয়া বরানগরে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, ইদ্রিশ আলির (Idrish Ali) প্রয়াণে খালি হওয়া ভগবানগোলা আসনে রেয়াত হোসেন সরকারকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাহলে কি শান্তনু সেনের উপর ভরসা করতে পারছে না দল! এবার কি বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি?
উপনির্বাচনেও ভরসা করতে পারল না দল! টিকিটের আশাভঙ্গ হতেই বিজেপির পথে শান্তনু?

শান্তনু সেনকে (Santanu Sen) এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দলের একজন কর্মী। দলের সিদ্ধান্ত শিরোধার্য। প্রথম দিন থেকে তৃণমূলের অনুগত একজন সৈনিক। তবে সৈনিক বলে তো রোবট নয়, আমি একজন মানুষ। সেখান থেকে একটা খারাপ লাগা থাকে। সৈনিক হিসেবে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। তাই দলের হয়ে কাজ করে যাব।’ এবারও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তনু সেন।



