নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী অধিবেশনে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে বাতিল হচ্ছে তিন কৃষি আইন। শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখার সময়েই বিরাট ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কৃষি আইন বাতিলের পথে কেন্দ্র সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনরত কৃষকদের প্রধান সংগঠন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। কিন্তু আন্দোলন এখনই থামছে না। এমনটাই স্পষ্ট করেছেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়িত। কাগজে কলমে প্রত্যাহার না হওয়া অবধি আন্দোলন জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Farm Law: তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চলেছে কেন্দ্র, গুরু নানকের জন্মদিনে ঘোষণা মোদির।


সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে জানানো হয়েছে, টানা এক বছরের আন্দোলনে প্রায় ৭০০ এর বেশী কৃষক শহীদ হয়েছেন। সেইসঙ্গে লাখিমপুর খেরির কৃষকদের হত্যার কথাও উল্লেখ করেছেন কৃষকরা। সেই দায় সরকার কখনও এড়িয়ে যেতে পারে না। কৃষকদের দাবী শুধুমাত্র তিন কৃষি আইন বাতিল করলেই হবে না। কৃষকরা যাতে ফসলের নুন্যতম সহায়ক মূল্য পান সেবিষয়েও সুনিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।
SKM also reminds the Prime Minister that the agitation of farmers is not just for the repeal of the three black laws, but also for a statutory guarantee of remunerative prices for all agricultural produce and for all farmers. This important demand of farmers is still pending.
— Kisan Ekta Morcha (@Kisanektamorcha) November 19, 2021
শুধুমাত্র কৃষি আইন নয়, সরকারের তরফে যে নয়া বিদ্যুৎ বিল আনা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে সরকারকে। সরকারের পদক্ষেপ দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাশ হয় তিন কৃষি আইন। সংসদে পাশ হওয়ার সময় এই আইনকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তাল হয়। বিতর্কিত এই আইনের প্রতিবাদে গত বছরের নভেম্বর মাসে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন পাঞ্জাব হরিয়ানা সহ দেশের সমস্ত রাজ্যের কৃষকরা। ২৬ নভেম্বর দিল্লি উপকন্ঠে উপস্থিত হয় কৃষকদের পদযাত্রা। দিল্লি প্রবেশের আগেই কৃষকদের আটকে দেওয়া হয়। ব্যবহার করা হয় জল কামান, কাঁদানে গ্যাস। এমনকি লাঠিচার্জ করা হয় কৃষকদের ওপর।
কৃষি আইন বাতিলের পথে কেন্দ্র, কাগজে কলমে প্রত্যাহারের দাবী কৃষকদের

কৃষকরা যাতে দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য সিমেন্টের ব্যারিকেড ব্যবহার করা হয়। ব্যবহার করা হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। অগত্যা তখন থেকে সিঙ্ঘু, টিকরি এবং গাজিপুর সীমান্তে চলতে থাকে আন্দোলন। চলতি মাসের ২৬ তারিখে আন্দোলন এক বছরে পড়ার কথা ছিল কৃষি আইনের। তার আগেই আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন প্রধানমরন্ত্রী। কৃষি আইন বাতিলের পথে কেন্দ্র সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেন কৃষকরা।









