রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া শুরু কংগ্রেসের! নতুন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর কী বললেন?

"দল যদি চায়, তাহলে আমার উপর সেই নির্দেশ আসবে। আমি তখন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলব। বামেরাও আমাদের ইন্ডিয়া জোটের শরিক, আবার তৃণমূলও।" মন্তব্য শুভঙ্করের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কট্টর’ সমালোচক অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সরিয়ে দিল কংগ্রেস হাই কমান্ড। রাজ্যের নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হলেন শুভঙ্কর সরকার। মমতার বিরোধিতার প্রশ্নে তিনি কিছুটা হলেও নরমপন্থী। রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে গুঞ্জন, তাহলে কি আগামী দিনে তৃণমূলের সমর্থনেই লড়বে কংগ্রেস?

একুশের বিধানসভা থেকে হাতে হাত ধরে চলে আসছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও যার অন্যথা হয়নি। বিধানসভায় দু’টি দলই একটিও আসন জিততে পারেনি। তবে লোকসভায় একটি আসন জিতেছে কংগ্রেস। কিন্তু হেরে গিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মত বর্ষীয়ান নেতা। এবার অধীর-যুগ অতীত! দায়িত্বে শুভঙ্কর। তাঁর সম্পর্কে জানা যায়, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের প্রতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতো কট্টরপন্থী মনোভাব রাখেন না। তাহলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলাতে চলেছে?

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও বাম-কংগ্রেস জোটের বিরোধিতা করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি আসন সমঝোতা করতেও রাজি ছিলেন। যেহেতু সর্বভারতীয় পর্যায়ে ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেস ও তৃণমূল একসঙ্গেই রয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। মমতা কংগ্রেসকে দু’টি আসন ‘অফার’ করেন, কিন্তু সেটা মানতে চাননি অধীর চৌধুরী। এবার শুভঙ্কর জমানায় কি তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা হবে?

একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে শুভঙ্কর বলেছেন, “আমি কট্টর না নরম জানিনা! অধীরদা আমার নেতা। আমার একটাই লক্ষ্য, কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরোধী। গত দিন পর্যন্ত আমরা বামেদের সঙ্গে ছিলাম। বামেদের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে প্রচার করেছি। আজ আমি সভাপতি। আমি এখনই কি করে বলব যে আমি বামেদের সঙ্গে নেই, তৃণমূলের সঙ্গে আছি! এজন্য তো আমাকে সভাপতি করা হয়নি।”

সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতার যে বিষয়ে আসছে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমরা সর্বভারতীয় দল। দল যদি চায়, তাহলে আমার উপর সেই নির্দেশ আসবে। আমি তখন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলব। বামেরাও আমাদের ইন্ডিয়া জোটের শরিক, আবার তৃণমূলও।”

এখানেই না থেমে শুভঙ্কর বলে চলেন, “তবে এটুকু বলতে পারি এখন রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে আগামী দিনে যদি নাগরিক সমাজ নির্বাচনে লড়তে চায়, তাহলে তো আমাকে নাগরিক সমাজকে সমর্থন করতেই হবে। পরিস্থিতি যেটা চাইবে আমি সেই সিদ্ধান্ত নেব।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর