নজরবন্দি ব্যুরোঃ বুধবার রামপুরহাটের ঘটনা নিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। সেই রিপোর্ট নিয়ে বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপির রিপোর্টে বীরভূম তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম রয়েছে। তার মানে গ্রেফতার হতে পারেন অনুব্রত!
অনুব্রত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রিপোর্টে আমার জেলা সভাপতির নাম করেছে। এটা খুব খারাপ। তদন্ত না করে কী করে আমার জেলা সভাপতির নাম উল্লেখ করতে পারেন? তার মানে অনুব্রতকে গ্রেফতার করতে চায়! এটা তো ব্যক্তিগত শত্রুতার ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে। সবাইকে গ্রেফতার করতে চায়। যাঁরাই বিজেপির বিরোধিতা করছে, ওঁরা সবাইকে গ্রেফতার করতে চায়। এ ভাবেই সবার মুখ বন্ধ করতে চাইছে বিজেপি। আমি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাবের তীব্র নিন্দা করছি।
তিনি আরও বলেন, সিবিআইকে তদন্তের পূর্ণ সহযোগীতা করছে রাজ্য সরকার। সিবিআই তদন্ত যখন চলছে, তখন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট তদন্তকে দুর্বল করে দেবে। রিপোর্ট ব্যবহার করা হবে রাজনৈতিক স্বার্থে। এ ভাবে আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্ত ভুলপথে চালিত হলে মানুষের বিশ্বাস কমে যাবে।

২৪ তারিখ বগটুই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। দলের মধ্যে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের ছিলেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন ডিজিপি তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ব্রিজলাল, মুম্বই পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার তথা সাংসদ সত্যপাল সিং, কর্নাটকের প্রাক্তন আইপিএস তথা সাংসদ রামমূর্তি এবং বিজেপি সাংসদ তথা সর্বভারতীয় মুখপাত্র প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ।
ওই দিন প্রশাসনের বাধার মুখে পড়তে হয় বিজেপির প্রতিনিধি দলকে। পরে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যার মুখে বগটুই গ্রামে প্রবেশ করেন তাঁরা। গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন তাঁরা। কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও। এরপর নিজেদের মতো করে রিপোর্ট তৈরি করেন কেন্দ্রিয় নেতারা। পরে জেপি নাড্ডার কাছে জমা দেন।
গ্রেফতার হতে পারেন অনুব্রত! জল্পনা তুঙ্গে

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল সরকার। বালি, পাথর, কয়লার টাকা তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাদের কাছে যায়।আতঙ্কে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষ। ঘটনাস্থলে মানবধিকার কমিশন এবং মহিলা কমিশনকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে বারবার অনুব্রত মণ্ডলের নাম উঠে এসেছে।



