বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব আর কিছু ঘন্টার অপেক্ষা। মা দুর্গা কৈলাস ছেড়ে মরতে আগমন করবে তার বাপের বাড়িতে। তিনি শুধু একা নন সঙ্গে আসবে তার ছেলেপুলেরাও। মা দুর্গার আগমনী মরতে আপামর দেশবাসী আনন্দে মেতে উঠবে দেবী দুর্গার আরাধ্যনাই। মা উমা প্রতিবছর চার দিনের জন্য মরতে আসেন। দশমীর ৩ বাপের বাড়ি থেকে মহাদেবের কাছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী এই চার দিন মর্ত ধামে পূজিত হন মা উমা। বিজয়া দশমীতে মা দুর্গার বিসর্জন হয়। কিন্তু কেন এই বিসর্জন দশমীতেই করা হয়? আসুন জেনে নেই তার কারণ।
আসলে দশমীর দিন মা দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয় না। দেওয়া হয় মা দুর্গার মূর্তিকে। মাটির মোড় থেকে যখন প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন তা পরিণত হয় প্রতিমায়। আর দশমীর দিন শেষ পুজোর পর সে প্রতিমাকে প্রাণহীন করা হয়। তখন পড়ে থাকে শুধু মাটির মূর্তি। সে মাটির মধ্যে বিসর্জনের পর গলে যাই মাটি। থাকে শুধু খরকুটো। আর সেই খড়কুটো থেকেই আগামী বছরের জন্য ফের মূর্তি তৈরীর প্রস্তুতি শুরু হয়। পুরান মতে প্রত্যেক বছর পুজোর সময় দেবী নিজের বাপের বাড়িতে আসেন।
তার পরে দশমীর দিন তিনি আবার স্বামীর কাছে ফিরে যান। দেবী যখন বাপের বাড়ি আসেন, তখনই তাঁর পুজো করা হয়। মর্ত্যলোকে দেবীর আরাধনার জন্য মূর্তি গড়া হয়। এর পরে মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেবী তাতে অধিষ্ট হন। কিন্তু দশমীর দিন এই মাটির দেহ ত্যাগ করেই তিনি ফিরে যান স্বামীর কাছে। তখন মাটির দেহটি প্রাণহীন হয়ে পড়ে। আবার পুরাণমতে মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে বিজয়ী হয়েছিলেন দেবী দুর্গা।
দশম দিনেই অধর্ম ও পাপের বিনাশ করেছিলেন দেবী। এইদিনই ‘বিজয়া’ নামে পরিচিত। এরপরই দেবী দু্র্গা রুপ ছেড়ে পার্বতী রুপে ফিরে আসেন।যেহেতু দেবী দশমীর দিন ধরাধাম ছেড়ে কৈলাসে পাড়ি দেন, তাই প্রাণহীন প্রতিমাটি কেবল পড়ে থাকে। তাই সেই প্রতিমাটিই এইদিন জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। অপেক্ষায় থাকে ভক্তরা। এভাবেই পরের বছর দেবীকে নতুন ভাবে স্বাগত জানানো হয়।



