মহাশিবরাত্রির আবহ কাটতে না কাটতেই আসছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটতে চলেছে। তবে আকাশপ্রেমীদের জন্য হতাশার খবর—ভারত থেকে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে না। বলয়গ্রাস দৃশ্যমান হবে মূলত অ্যান্টার্কটিকা থেকে, আর আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্র নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে এক সরলরেখায় অবস্থান করলে এবং চন্দ্র পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এলে সূর্যগ্রহণ ঘটে। চন্দ্রের ছায়া পৃথিবীতে পড়ার ফলেই সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণ আড়াল হয়। অবস্থানগত তারতম্যের কারণে পূর্ণগ্রাস, আংশিকগ্রাস ও বলয়গ্রাস—এই তিন ধরনের সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এবারটি বলয়াকারগ্রাস, যেখানে সূর্যের মাঝখান ঢেকে গিয়ে চারপাশে আগুনের বলয়ের মতো আভা দেখা যায়।


কোথায় দেখা যাবে গ্রহণ?
-
বলয়গ্রাস: কেবলমাত্র অ্যান্টার্কটিকা
-
আংশিক গ্রহণ: আর্জেন্টিনা ও চিলির দক্ষিণ অংশ
-
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক থেকেও আংশিকভাবে দৃশ্যমান হবে
ভারতবর্ষ থেকে এই গ্রহণ দেখা না গেলেও ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণের সূচি প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী সূর্যগ্রহণের সময়সূচি
-
গ্রহণস্পর্শ: দুপুর ৩টে ২৭ মিনিট
-
বলয়গ্রাস আরম্ভ: বিকেল ৫টা ১৮ মিনিট
-
অমান্ত সন্ধ্যা: বিকেল ৫টা ৩২ মিনিট
-
গ্রহণ মধ্য: বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট
-
বলয়গ্রাসের সমাপ্তি: সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট
-
গ্রহণমোক্ষ: সন্ধ্যা ৭টা ৫৮ মিনিট
গ্রহণকালে গ্রহের অবস্থান (জ্যোতিষ মতে)
-
মিথুনে বৃহস্পতি
-
সিংহে কেতু
-
মকরে মঙ্গল
-
কুম্ভে রাহু, সূর্য, চন্দ্র ও বুধের যুগল অবস্থান
-
মীনে শনি
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে নিছক মহাজাগতিক সমাপতন হিসেবে দেখলেও জ্যোতিষমতে গ্রহণের সময় গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তবে যেহেতু ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়, তাই আকাশে সেই বলয়াকার আগুনের রিং দেখা যাবে না।
মহাশিবরাত্রির আধ্যাত্মিক আবহের পরেই এমন এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা—মহাকাশপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে তা তাৎপর্যপূর্ণ।










