জার্সি, হংকং, পাপুয়া নিউগিনি, বারমুডা—বিকল্পের তালিকা ছিল লম্বা। তবুও সব সম্ভাবনা কাটছাঁট করে বাংলাদেশের বদলি হিসেবে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকেই সুযোগ দিল আইসিসি। ক্রিকেট মহলের খবর, সিদ্ধান্তটি ইতিমধ্যেই স্কটল্যান্ডকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্বকাপে খেলার এই সুযোগ তারা কার্যত হাতে পেয়ে গেছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এমন সুযোগ তারা হাতছাড়া করবে না।
কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই—যখন বিকল্প ছিল একাধিক, তখন কোন যুক্তিতে বাছাইপর্বে তুলনায় পিছিয়ে থাকা স্কটল্যান্ডকেই বেছে নিল আইসিসি? এশিয়ার কোনও দলকে নিলে আয়োজক ও সম্প্রচারের দিক থেকেও আইসিসির সুবিধা বাড়তে পারত। তাহলে কেন জার্সি বা হংকং নয়? কেনই বা পাপুয়া নিউগিনি কিংবা অন্য কোনও যোগ্য দাবিদার নয়?
যোগ্যতা না থাকলেও আইসিসি বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে
বিশ্বকাপে খেলার জন্য সাধারণ নিয়মে যোগ্যতা অর্জন করতেই হয়। বাংলাদেশও সেই যোগ্যতা অর্জন করেই খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। ফলে বাংলাদেশের বদলে যে দলই বিশ্বকাপে ঢুকুক না কেন, তারা মূলত হবে “অযোগ্য দল”—অর্থাৎ যারা যোগ্যতা অর্জন করেনি। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইসিসি নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনও দলকে সুযোগ দিতে পারে, এমন নজিরও আছে অতীতে।
২০০৯ সালের ঘটনা মনে করাচ্ছেন অনেকেই। রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবোয়ে ইংল্যান্ডকে দল পাঠায়নি, ফলে সেই বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছিল। এবারও কার্যত একই পথেই হাঁটল আইসিসি।
জার্সির দাবিও ছিল জোরালো, তবু তারা বাদ
সবচেয়ে বড় চমক এখানেই—বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিল জার্সি। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের উপরেই ছিল জার্সি। ফলে নিয়মের বিচারে বিচার করলে জার্সিই ছিল বেশি “বৈধ দাবিদার।”


তবে আইসিসির সিদ্ধান্তে সেই যুক্তি কার্যত পিছনে পড়েছে। জানা যাচ্ছে, আইসিসি এখানে অগ্রাধিকার দিয়েছে অতীত পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতার দিকে। আর সেই দিক থেকে স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছে তারা।
স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে দিল অভিজ্ঞতা, ‘আপসেট’ ইতিহাস এবং র্যাঙ্কিং
ইউরোপের অ্যাসোসিয়েট ক্রিকেট সার্কিটে স্কটল্যান্ড ইতিমধ্যেই নিজেদের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দলটি আইসিসির অ্যাসোসিয়েট সদস্য হলেও শেষ কয়েকটি টি-২০ বিশ্বকাপে তারা ধারাবাহিকভাবে নজর কেড়েছে।

-
২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দেয় স্কটল্যান্ড।
সেইবার তারা গ্রুপে তৃতীয় হয়েছিল এবং অল্পের জন্য পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি। -
২০২২ সালে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলকেও হারায়।
সেবারও অল্প ব্যবধানে তারা সুপার-১২ পর্বে উঠতে পারেনি। -
২০২১ সালে স্কটল্যান্ড সুপার-১২ রাউন্ডে উঠেছিল।
অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে তারা বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে।
এই ধারাবাহিকতাই আইসিসির কাছে সবচেয়ে বড় যুক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়—যে সব দল বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি, তাদের মধ্যে আইসিসির ক্রমতালিকায় সবার ওপরে রয়েছে স্কটল্যান্ডই।
আইসিসির সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে বিতর্ক
যদিও অতীত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বেছে নেওয়ার যুক্তি রয়েছে, তবুও সমালোচনার জায়গাও তৈরি হয়েছে। কারণ বাছাইপর্বের রেজাল্ট যদি সত্যিই প্রধান মানদণ্ড হয়, তাহলে জার্সি কেন বাদ পড়ল—এই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।
এখন দেখার—বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে স্কটল্যান্ড কীভাবে নিজেদের প্রমাণ করে, আর আইসিসি তাদের এই সিদ্ধান্তকে মাঠের ফলাফল কতটা সঠিক প্রমাণ করে।









