“আরও একটা দল রেডি করুন!” বাংলাদেশ বাদ পড়তেই ICC-কে চাপে ফেলতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় ICC-র বিরুদ্ধে সরব পাকিস্তান। PCB প্রধান মহসিন নকভির হুঁশিয়ারি, সরকার চাইলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়ার ঘোষণার পরই ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন করে শুরু হল কূটনৈতিক ঝড়। ICC-র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে গর্জে উঠল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। বোর্ড প্রধান মহসিন নকভি সাফ জানিয়ে দিলেন—বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া “অন্যায়”, আর পাকিস্তান সরকার অনুমতি দিলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। তাঁর হুঁশিয়ারি আরও কড়া—“আমরা না খেললে ২২ নম্বর দল তৈরি করে রাখুন!”

বাংলাদেশকে নিয়ে এই উত্তাপ নতুন নয়। ভারতীয় মাটিতে নিরাপত্তা-ঝুঁকির কথা তুলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে না আসার অবস্থান নেয়। ICC শেষ পর্যন্ত সেই দাবিকে মান্যতা না দিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দেয়। আর তাতেই ওয়াঘার ওপারে ‘সহানুভূতি’র সুরে হলেও বাস্তবে এক বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে নেমে পড়ে পাকিস্তান।

শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান, ICC বৈঠকেও একা ভোট

মহসিন নকভির ভারতবিরোধী অবস্থান বহুদিন ধরেই চর্চিত। ফলে এই ইস্যুতে পাকিস্তান যে বাংলাদেশের পক্ষ নেবে, তা অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। পাক বোর্ড প্রথম থেকেই ICC-কে জানিয়েছিল—বাংলাদেশের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।

সূত্রের দাবি, ICC-র বোর্ড মিটিংয়ে যখন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হল, তখন বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছিল একমাত্র পাকিস্তানই। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের ভিতরে কার্যত একা দাঁড়িয়ে পড়ে ইসলামাবাদ।

নকভির তোপ: “বাংলাদেশ বিশ্বকাপের বড় অংশীদার”

ICC সরকারিভাবে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার পরই নকভি বলেন,
“আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। বাংলাদেশকে যেভাবেই হোক বিশ্বকাপে খেলাতে হবে। ওরা বিশ্বকাপের বড় অংশীদার। এই অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।”

এরপরই তাঁর বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। নকভির হুঁশিয়ারি,
“পাকিস্তান সরকার যদি বলে আমরাও খেলতে যাব না—তাহলে আপনারা ২২ নম্বর দল তৈরি রাখুন।”

‘বয়কট’ বার্তা দিলেও সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ঘাড়ে

নকভি কৌশলে পুরো বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন,
“এই সিদ্ধান্তটা নিতে হবে পাকিস্তান সরকারকে। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলব।”

অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়ে চাপ তৈরি করা হলেও শেষ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায়ে হবে—এই বার্তাই দিয়ে রেখেছেন PCB প্রধান।

কেন এই হুঁশিয়ারি গুরুত্বপূর্ণ? ICC ও ভারতের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা

ক্রিকেট মহলের মতে, বাংলাদেশ না খেললে ICC আগেই চাপের মুখে—বিশেষ করে সম্প্রচার বাজার, স্পনসরশিপ এবং দর্শক টানের জায়গায় ধাক্কা লাগতে পারে। সেই তালিকায় পাকিস্তানও যুক্ত হলে চাপ আরও বাড়বে।

পাকিস্তান এই সুযোগেই ICC সভাপতি জয় শাহ এবং ভারতের উপর দ্বিমুখী চাপ বাড়াতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ পাকিস্তানও বিশ্ব ক্রিকেটের একটি বড় ব্র্যান্ড ভ্যালু—তারা না খেললে বিশ্বকাপের আকর্ষণ এবং বাজারমূল্য দুইই কমবে।

কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন: আর্থিক সংকটে PCB কি সত্যিই বয়কট করবে?

পাকিস্তান যদি সত্যিই বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে ICC বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে—এ কথা ঠিক। কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত শক্তি, “ফেলনা দল” নয়। তাদের অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপের জৌলুস কমতে বাধ্য।

কিন্তু উল্টো দিকে বড় প্রশ্নও উঠছে—এই মুহূর্তে আর্থিক সংকটে থাকা PCB আদৌ এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কি? বিশ্বকাপ বয়কট মানে ম্যাচ ফি, সম্প্রচার রাজস্ব, স্পনসর অ্যাক্টিভেশন—সব মিলিয়ে পাক বোর্ডের জন্যও তা কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ফলে নকভির হুঙ্কার যতই শক্তিশালী শোনাক না কেন, বাস্তবে পাকিস্তান সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে কি না—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট বিশ্বের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর