ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঝুলে, কয় দফায় ভোট—তা নিয়েও দফায় দফায় আলোচনা। ঠিক সেই আবহেই রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে নবান্নে চিঠি পাঠাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। একই জায়গায় টানা তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত আধিকারিকদের অবিলম্বে বদলি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রে মনে করা হচ্ছে, দোলের পরেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে।
নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁরা একই পদে বা একই জেলায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত, তাঁদের আর সেখানে রাখা যাবে না। এই নিয়ম জেলা ও মহকুমা স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে নবান্ন বা অন্যান্য সদর দপ্তরে কর্মরত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এই বদলির নিয়ম কার্যকর হবে না বলেই কমিশন সূত্রে খবর।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিডিও থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি করতে হবে। শুধু প্রশাসনিক দপ্তর নয়, পুলিশ প্রশাসনেও ব্যাপক রদবদলের কথা বলা হয়েছে। এসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, আইজি ও ডিআইজির মতো পদে কর্মরত আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ কার্যকর হবে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশ রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় যাঁরা কোনও জেলায় জেলাশাসক, রিটার্নিং অফিসার বা পুলিশ ইনস্পেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন, এ বার তাঁদের সেই একই জেলায় পোস্ট করা যাবে না। ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের ব্যাখ্যা।
এদিকে মঙ্গলবার নবান্ন থেকে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি কর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভোটের কাজে এই কর্মীদের ব্যবহার করা হবে কি না, তা যাচাই করে দেখছে কমিশন।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াতেও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তার আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি পর্ব। চূড়ান্ত তালিকায় কারও নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানানো যাবে। সেখান থেকে সুরাহা না মিললে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক বদলি, ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রস্তুতির গতি দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা—ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণাও আর খুব দূরে নয়।



