আগামী ২৩ জুলাই তৃতীয় এনডিএ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই বাজেটের দিকে নজর রয়েছে সকলের। এই বাজেটে আগামী অর্থবর্ষে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং রাজস্ব নীতির প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী থাকবে তা স্পষ্ট হবে। ২৩ তারিখ সকাল ১১টায় লোকসভায় বাজেট ঘোষণা শুরু হবে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কিন্তু, আপনি কি জানেন আগে বাজেট ঘোষণা হত বিকেল ৫টার সময়! কী ছিল তার কারণ?
১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাজেট পেশ হত বিকেল ৫টায়। সেই সময় অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা এই সময়কে পরিবর্তিত করেন। সেই থেকে লোকসভায় সকাল ১১টায় বাজেট পেশ হয়ে আসছে। কিন্তু, কেন আগে বিকেল ৫টায় বাজেট ঘোষণা হত? কেনই বা তা বদলানোর প্রয়োজন পড়ল? আসলে, এটা ঔপনিবেশিকতার আঁচ। ভারতে একসময় ব্রিট্রিশ শাসন কায়েম ছিল। ভারতীয় সংবিধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইনে যেমন ব্রিটিশদের প্রভাব রয়েছে, ঠিক সেরকম সরকারি কাজের ক্ষেত্রেও ছিল।



বিষয়টা হল, ভৌগলিক অবস্থানের তারতম্য অনুযায়ী ভারতের সময় ইংল্যান্ডের চেয়ে সাড়ে ৫ ঘন্টা এগিয়ে। আগের নিয়মে এই বাজেট লন্ডনেও সম্প্রচারিত হত। এবং স্বাধীনতার আগে যে নিয়মাবলী প্রচলিত ছিল তা বজায় রাখা হয় ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। ভারতের সময় বিকেল ৫টা মানে লন্ডনে ওই সাড়ে ১১টার আশেপাশে। ফলে, সে দেশে বসে ইংরেজরা বাজেটে নজর রাখতে পারতেন। কিন্তু, এখন সকাল ১১টায় বাজেট ঘোষণা হয়। সেই অনুযায়ী লন্ডনে সময় ভোর ৫টা। ইংরেজ আমলে এটা হলে একেবারে সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠতে হত লন্ডনবাসীদের। সেই কারণেই ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেলেই বাজেট পেশ হত।
আগে বাজেট পেশ হত বিকেল ৫টায়, পরে সময় বদলে করা হয় সকাল ১১টা, কারণ জানেন?
১৯৯৯ সালে এই বিষয়টি বদলাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন যশবন্ত সিনহা। কারণ, আর লন্ডনের সময় ধরে ভারত কেন তাঁদের সরকারি কাজকর্ম চালাবে? সওয়াল তোলেন তিনি। ভারতীয় কাজকর্ম হবে ভারতীয় সময় মেনে, সেটাই স্বাভাবিক বলে দাবি করেন যশবন্ত। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ সালে বিকেল ৫টার বদলে সকাল ১১টায় বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।



অন্য আর একটি বিষয়, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাজেট পেশ হত ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে। কিন্তু, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা শুরু করেন। কারণ, বাজেট লাগু হয় ১ এপ্রিল থেকে। সেখানে ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট ঘোষণা হলে নতুন বাজেটের নীতিগুলিকে মসৃণভাবে বাস্তবায়নের জন্য একমাসের অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়। ৯২ বছরের পুরনো ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে, ২০১৬ সালে, রেলওয়ে বাজেট, যা আগে আলাদাভাবে পেশ করা হত, তাকে মূল বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়।







