নজরবন্দি ব্যুরোঃ বছর কয়েক ধরে পড়ে রয়েছে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প। ২০১৬ সাল থেকে সেই ধারা বজায় রয়েছে। অসংখ্য কাজ এখনও পড়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে সেই প্রকল্প শুরু করলেও এখনও সবগুলোতে ‘ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস’ বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এবার তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি কাজ ফেলে রাখা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বললেন “তোমাদের কানমোলা খাওয়া উচিত”। সব কাজে ওয়ার্ক ইন প্রোগেস একন? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ জোর করে জমি দখলের চেষ্টা! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ অপর্ণা সেনের বিরুদ্ধে
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না। অর্থনৈতিক টানাটানির মধ্যেই সরকার মানুষের জন্য গুচ্ছ গুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, প্রকল্প নিয়েছে—কিন্তু একাংশের সরকারি কর্মচারীদের গয়ংগচ্ছ মনোভাবের জন্য মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না।

মূলত জেলা পরিষদের কাজ নিয়েও এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কী ভাবে টেন্ডার হওয়ার পরেও পূর্ত দফতর কী ভাবে কাজ ফেলে রেখেছে? এদিন মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে নির্দেশ দেন, কী টেন্ডার হয়েছে, কী কাজ শুরু হয়নি সেসম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সাত দিনের মধ্যে নবান্নে পাঠাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন এও বলেন, একাংশের কর্মচারী, যাঁরা সরকারের থেকে বেতন পান, তাঁদের কাজকর্মের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বদনাম হচ্ছে।
সোমবার একই মন্তব্য করে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নীচুতলার এরা কালেকশন করে। তারা কালেকশন করে সরকারকে টাকাটা জমা দেয় না। কিছুটা দেয়। বাকিরা নিজেরা খেয়ে নেয়। কী জেলা চালাচ্ছ গো তুমি? এতদিন ধরে জেলায় আছো! হোয়াট ইউ আর ডুইং? আমার আইডিয়া চেঞ্জ হয়ে গেল।
সব কাজে ওয়ার্ক ইন প্রোগেস, প্রশ্ন তুললেন মমতা

এরপরে তিনি বলেন, “তোমাদের জেলায় কত প্রোজেক্ট পেন্ডিং আছে? তোমরা চটপট উত্তর দিয়ে দাও। ইট ইজ আন্ডার প্রোসেস। মানে যেগুলো করোনা বা ফেলে রেখে দাও, দিনের পর দিন। তোমরা বলে দাও ইট ইজ আন্ডার প্রোসেস। প্রেজেন্ট স্টেটাস কি? সেটা কি? খায় না মাথায় দেয়?” তিনি বলেন, ‘এতকিছু দিচ্ছি মানুষকে। অথচ কিছু লোক এত লোভী কেন হয়ে গেছে? আর কত চাই? আমার পার্টির লোক হলে আমি টেনে চারটে থাপ্পড় মারতাম এবং তাঁদের শাসন আমি সবসময়ই করি।’



