নজরবন্দি ব্যুরোঃ এক প্রহর বাকি। তারপর ‘আবার’ নিজেদের বিধানসভার দায়িত্ব কাকে দেওয়া যায় সেই ভেবে রায় দেবেন ধূপগুড়ির প্রায় দু’লক্ষ ষাট হাজার ‘শ্রোতাবন্ধুগণ’। ‘আবার’ কেন? ওয়াকিবহালরা অবশ্যই জানেন, বিধানসভা ভোট একুশে হয়ে গ্যাছে। সেখানে ধূপগুড়ি জিতেছিল বিজেপি। বিজেপির বিষ্ণুপদ রায়। তিনি মারা যাওয়াতেই তথাকথিত বা প্রয়োজনীয় উপনির্বাচনের প্রয়োজন। মূল লড়াইয়ে তিন জন। জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকের। অন্তত দলের স্বার্থে। এবারের ধূপগুড়ি আসন কার জানা যাবে শুক্রতে। তার আগে পরিস্থিতি নিয়ে দু’চার কথা…
আরও পড়ুনঃ বিক্রম প্রজ্ঞান ঘুমিয়ে পড়লে নাসার দেওয়া ‘উপহার’ কাজে আসবে ইসরোর! জানেন ব্যাপারটা কী?
ধূপগুড়ির দূরত্ব কলকাতা থেকে সাড়ে ছ’শো কিলোমিটার। যেতে লাগে তাও ষোলো ঘন্টা গাড়িতে। উত্তরের জায়গা। জঙ্গল পাশ্ববর্তী এলাকা। সেইখানে নির্বাচন। নির্বাচনের দিনও বন্যপ্রাণীরা বুথ দখল করতে পারেন বলেও আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। মূলত রাজবংশী অধ্যুষিত ধূপগুড়ি সিপিআইএম শাসিত ছিল ষোলো সাল পর্যন্ত! মানে, এগারোর ‘মমতা হাওয়া’র প্রভাব অত উত্তরে টের পাওয়া যায়নি। ক্ষমতায় এসে ধূপগুড়ির রঙ বদলাতে তৃণমূল সময় নেয়নি। মিতালি রায়কে প্রার্থী করে ধূপগুড়ি জিতে নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মিতালি কিন্তু এবারের নির্বাচনেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলেন মাত্র দু’দিন আগে দল পরিবর্তন করে। মিতালি এখন বিজেপির।

যে মিতালি রায় কমিউনিস্টকে সরিয়ে মা-মাটি-মানুষকে ক্ষমতাইয় আনলেন তিনি কিন্তু একুশের ভোটে হারলেন বিজেপির কাছে। কারণ মেদিনীপুর থেকে উত্তরের দিকে বিজেপি চওড়া হচ্ছিল আগে থেকেই। উনিশের লোকসভায় জলপাইগুড়ি থেকে জিতে যান জয়ন্ত কুমার রায়। নীচের দিকে ছিলেন বালুরঘাটের সুকান্ত মজুমদার। ফলে দুই নেতার তত্ত্বাবধানে ধূপগুড়িতে বিজেপি নিজেদের কায়েম অর্জন করে। মিতালি একুশের ভোটে হারলেও হেরেছিলেন মাত্র ৪,৩৫৫ ভোটে। বিজেপির চেয়ে তৃণমূল কম পেয়েছিল মাত্র ১.৯০ শতাংশ। এই দুশ্চিন্তা বিজেপির যতটুকু ছিল তা কেটে গেল মিতালির যোগদানেই। অর্থাৎ মিতালির জনপ্রিয়তা একেবারে কমে গেছিল না। ধূপগুড়িতে তাই স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দল।
‘উপ’ ভোট মানে এখন এক নতুন উত্তেজনা। ভরপুর রাজনৈতিক লড়াই। আর হবে নাই বা কেন! ভোটের আমেজ তো পশ্চিমবঙ্গ থেকে যায় না। একে একে একে ভোট হয়েই চলে! যে মিতালি রায় একুশের ভোটে হেরেছিলেন সেবার মিতালি ছাড়াও ধুপগুড়ি থেকে তৃণমূলের টিকিট পেতে চেয়েছিলেন আরেক জন। তিনি নির্মল রায়। আগে না দিলেও এবার কথা রেখেছে তৃণমূল। পেশায় অধ্যাপক নির্মল লেখালেখির কাজের সঙ্গেও যুক্ত। মাগুরমারিতে বাড়ি। দার্জিলিং কলেজে কিছুদিন অধ্যাপনা করেছেন। এই মুহূর্তে রয়েছেন ধুপগুড়ি গার্লস কলেজে। রাজবংশী সংস্কৃতির সঙ্গে, রাজবংশী মানুষের সঙ্গে নির্মলের বেশ নিবিড় যোগাযোগ। ছাত্র জীবনে নির্মল রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। প্রথমে কংগ্রেস এবং তারপর ধীরে ধীরে তৃণমূল কংগ্রেস।

‘ঈশ্বর’ ভরসায় CPIM, পুলওয়ামা ‘হাতিয়ার’ BJP-র, TMC-র তুরুপ ‘প্রফেসর’, এবার কোন পক্ষে ধূপগুড়ি?





