রাজ্যের সব চেয়ে বেশি কোন জেলাগুলিতে চাকরী বাতিল হয়েছে, রইল তালিকা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিজেপি ও সিপিএমকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে জরুরি বৈঠকের পর তিনি সরাসরি বিজেপি এবং সিপিএমের উপর দায় চাপালেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে চাইছে। নাম করেই আক্রমণ বিকাশ-সুকান্ত-অভিজিৎকে: সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাম করে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, বিজেপি এবং সিপিএম পরিকল্পনা করেই এই মামলাগুলো করেছে, যাতে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যায়।’’ অপরদিকে এই ইস্যুকে ঘিরে ফের আন্দোলনে নামতে চলেছে সিপিএম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় মাদুরাইয়ে দলের পার্টি কংগ্রেস চলাকালীন ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টি নিয়ে সরব হন। সেলিম বলেন, “হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

রাজ্যের দুর্নীতির জন্য যোগ্যরাও চাকরি হারিয়েছে। সবাইকে একজোট হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।” বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ এসএসসি মামলার রায় দেয় এবং নিয়োগে বেনিয়মের কারণে গোটা প্যানেল বাতিল করে। মুখ্যমন্ত্রী বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও, এই রায় মেনে নিতে পারছেন না। গতকাল সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বঞ্চিত শিক্ষকরা ইতিমধ্যেই একটি অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করেছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে একত্রিত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

সেই অনুরোধ মেনে ৭ মে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন। তিনি আরও বলেন, “বঞ্চিত শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান, এতে কোনো সমস্যা নেই। আমরা শিক্ষকদের পাশে থাকব।” এই আবহেই এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে কান্নার রোল চাকরিহারাদের। কেও আত্মহত্যার দিকেও ঝুকছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি খুব জটিল । স্কুল গুলো শিক্ষকের অভাবে ফাঁকা হয়ে যেতে বসেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভাবে সামলানো যায় তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে রাজ্যের কোন জেলাগুলিতে সব চেয়ে বেশি চাকরী বাতিল হয়েছে। এই বাতিলের তালিকায় সবার উপরে আছে মেদিনীপুরের নাম সেখানে চাকরী বাতিল হয়েছে ১৫০০ জনের।

এর পরে কোলকাতা। বাতিল চাকরির পরিমাণ ১১০০। বাঁকুড়ায় বাতিল হয়েছে ১০০৫ জনের। দক্ষিন দিনাজপুরে বাতিল ৫৮১ । ঝাড়গ্রামে বাতিল ৫২৭ জনের চাকরী। অপরদিকে হুগলী জেলাতে চাকরী বাতিল হয়েছে ৫৫৪ জনের। হাওড়া তে বাতিল ৪০০ জনের চাকরী। সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ঘোর সঙ্কটের মুখে।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত