পাঁচ, আট, চব্বিশ! বাংলাদেশের ইতিহাসে আবারও একটা উল্লেখযোগ্য দিন। গণ আন্দোলনের জেরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শেখ হাসিনা। ১৫ বছরের আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হল পদ্মাপাড়ে। সোমবার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। চলে আসেন ভারতে। কিন্তু, জানা যাচ্ছে, ভারত থেকে আবার অন্য দেশে পাড়ি দেবেন মুজিব-কন্যা!
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। পুলিশ ও পড়ুয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৩০০-এর অধিক মানুষের। সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট কোটা সংস্কারের পক্ষেই রায় দেয়। এর পর আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় আন্দোলন। দাবি, শেখ হাসিনার অপসারণ। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সরকারের নানা অগণতান্ত্রিক এবং একনায়কোচিত পদ্ধতি নিয়ে জমতে থাকা মানুষের রাগ ফেটে বেরিয়ে এই আন্দোলনকে এক বৃহৎ চেহারা দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার হাসিনা দেশ না ছাড়লে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হত বলেও মনে করছেন আওয়ামী লিগের সদস্যরা। বোন রেহানাকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ব্রিয়ে যান তিনি। হাতে সময় ছিল মাত্র ৪৫ মিনিট। ঢাকা থেকে প্রথমে সেনাবাহিনীর সি-১৩০জে বিমানে ত্রিপুরার আগরতলায় যান হাসিনা। সেখান থেকে সোজা দিল্লি। তবে, হাসিনার চূড়ান্ত গন্তব্য অবশ্যই ভারত নয়।
মঙ্গলবার সকালেই হাসিনার সি-১৩০জে বিমানটিকে উড়তে দেখা গিয়েছে বলে জানায় সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই। প্রথমে ধারণা করা হয়, হাসিনাও বোধহয় ভারত ছাড়ছেন। কিন্তু, সেই বিমানে হাসিনা ছিলেন না। যেটা জানা গিয়েছে, রেহানার মেয়ে তথা হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকি বর্তমানে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দল দল লেবার পার্টির সাংসদ। তিনি মন্ত্রীসভাতেও রয়েছেন।
ফলে, ইংল্যান্ড বা যুক্তরাজ্যের কোনও দেশ হাসিনার পরের গন্তব্য হতে পারে। কিন্তু, এর আগে ব্রিটেন জানায়, হাসিনাকে তাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে পারবে না। কিন্তু, এখনও চেষ্টা চালাচ্ছেন হাসিনা। ভারত সরকারও হাসিনার পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে কিছু জানায়নি। তবে, ভারতে খুব বেশিদিন হাসিনা থাকবেন না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



