সংঘর্ষ বিরোধী ডিভাইস ছিল না ট্রেনে, কী এই অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস?

Anti Collision Device: আগামী বছরের মধ্যে দিল্লি-গুয়াহাটি রুটের ৬ হাজার কিলোমিটার রেলপথজুড়ে এই প্রজুক্তি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় রেলের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিয়ালদহের দিকে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। মালগাড়ির ধাক্কায় ট্রেনের পিছন দিকের দু’টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে বলে খবর। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০ যাত্রীর। আহত বহু। অসমের শিলচর থেকে শিয়ালদহের দিকে আসছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সিগন্যাল লাল থাকায় নীচবাড়ি এবং রাঙাপানি স্টেশনের মাঝে দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি।

আরও পড়ুন: আমার তৈরি সিস্টেম আজও কার্যকর হল না কেন? রেলকে প্রশ্ন করে উত্তরবঙ্গে রওনা দিলেন মমতা

সংঘর্ষ বিরোধী ডিভাইস ছিল না ট্রেনে, কী এই অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস?
সংঘর্ষ বিরোধী ডিভাইস ছিল না ট্রেনে, কী এই অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস?

তখন সেই লাইনেই এসে পড়ে একটি মালগাড়ি। পিছন থেকে এসে সজোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে ধাক্কা মারে মালগাড়িটি। সংঘর্ষের অভিঘাতে মালগাড়ির উপর উঠে পড়ে এক্সপ্রেসের পিছনের কামরা। লাইনচ্যুত হয় মালগাড়িটিও। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্রকরে শুরু হয়েছে তর্জা। আর প্রসঙ্গ উঠেছে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করার কথা অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস নিয়ে।

মনেকরা হচ্ছে এই সিস্টেম থাকলে হয়তো এরান জেত এই দুর্ঘটনা। কিন্তু কি এই অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস? রেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সিস্টেম হল মূলত একটি সংঘর্ষবিরোধী প্রযুক্তি। দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ এর মাধ্যমে এড়ানো যায়। একই লাইনের উপর দুটি ট্রেনের উপস্থিতি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকেই বুঝতে পারে এই সিস্টেম । সেই অনুযায়ী সে আগেভাগে ট্রেনের চালককে সতর্ক করে দেয়। দুটি ট্রেন একই লাইনে চলে এলে ইঞ্জিনে বসানো একটি যন্ত্রের মাধ্যমে অনবরত সিগন্যাল দিতে থাকে ওই যন্ত্রটি।

যা চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, চালককে সতর্ক করার পরও তিনি পদক্ষেপ না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেলের গতিবেগ কমিয়ে দেয়। দুটি ট্রেনের ধাক্কা লাগার আগেই ব্রেক কষে থামিয়ে দেয়। ২০১২ তে এই প্রযুক্তির কথা ভাবা হয় আর ২০১৪ তে তা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ কড়া হয়। আর সেই প্রয়োগ ১০০% সফলও হয়।

সংঘর্ষ বিরোধী ডিভাইস ছিল না ট্রেনে, কী এই অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস?

rail2 1

উল্লেখ্য, আগামী বছরের মধ্যে দিল্লি-গুয়াহাটি রুটের ৬ হাজার কিলোমিটার রেলপথজুড়ে এই প্রজুক্তি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় রেলের। তবে এখনও পর্যন্ত হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে কবচ ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে যে অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস থাকলে হয়তো এত গুলো মানুষের প্রাণ অকালে ঝড়ে যেতনা। আর এখানেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত