রথযাত্রার ইতিহাস: প্রাচীন পটভূমি – রথযাত্রা হল ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা-র বিশেষ এক ধর্মীয় যাত্রা, যার সূচনা হাজার বছরের বেশি পুরোনো। এই উৎসবটি সর্বপ্রথম শুরু হয় ওড়িশার পুরীধামে, যেখানে রাজাগণ এবং পুরোহিত সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে এই উৎসব পালনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পুরাণ মতে, ভগবান কৃষ্ণ নিজের জন্মস্থান মথুরা থেকে দারুকা নগরে চলে গেলে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃতদেহের অংশবিশেষ দিয়ে তৈরি হয় আজকের জগন্নাথ বিগ্রহ। কথিত আছে, ভগবান জগন্নাথ একবার বছরে মায়ের বাড়ি যান, যা প্রতিফলিত হয় এই রথযাত্রায়।

বিশেষ করে, স্কন্দ পুরাণ, ব্রহ্ম পুরাণ-এর মতো ধর্মগ্রন্থে রথযাত্রার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

রথযাত্রা ২০২৫: তারিখ ও দিন
২০২৫ সালে, ২৭ জুন রথযাত্রা পালন করা হবে।
আর উল্টো রথযাত্রা (বহুডা যাত্রা) হবে অর্থাৎ ২০ আষাঢ়, ৫ জুলাই, শনিবার।
এই দুই তারিখে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ভগবানের রথ টানতে হাজির হবেন পুরী সহ ভারতের নানা প্রান্তে।
রথযাত্রা কেন হয়?
একবার ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা গুণ্ডিচা মন্দিরে (মায়ের ঘর) যান। এই ভ্রমণকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর হয় রথযাত্রা উৎসব। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তরা যদি রথের দড়ি টানেন, তবে পুণ্যলাভ হয় এবং জীবনের পাপক্ষয় ঘটে। রথে ভগবানকে গুণ্ডিচা মন্দিরে ৯ দিন রাখা হয়। তারপর “উল্টো রথে” ফেরেন।
তিনটি রথের পরিচয়:
১. নন্দীঘোষ (জগন্নাথ)
২. তালধ্বজ (বলরাম)
৩. দর্পদলন (সুভদ্রা)
প্রতিটি রথেই থাকে বিশেষভাবে বানানো দড়ি, যা “সাংহা” নামে পরিচিত। এই দড়ি টানাই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ।
ভারত ও বিশ্বে রথযাত্রার প্রসার
যদিও রথযাত্রা মূলত পুরীতেই হয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, মণিপুর সহ বহু রাজ্য ও শহরে রথযাত্রা হয়। বিদেশেও ISKCON-এর মাধ্যমে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, মেলবোর্ন সহ বহু শহরে হয় এই মহোৎসব।








