ইরানের নতুন ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা চরমে। এবার তাঁর সন্ধান দিতে পারলেই বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, মোজতবা কোথায় আত্মগোপন করে আছেন সেই তথ্য দিতে পারলে দেওয়া হবে ১ কোটি মার্কিন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯২ কোটিরও বেশি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসন জানায়, শুধু মোজতবা খামেনেই নয়, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মোজতবা খামেনেই, সর্বোচ্চ নেতার দফতরের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ আলি আসগর হেজাই, নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। মোট দশ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ছয় জনের ছবি প্রকাশ করেছে আমেরিকা। বাকি চার জনের ক্ষেত্রে ছবি না থাকায় শুধু নামই প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই তালিকায় আরও রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইস্কান্দার মোমেনি, গোয়েন্দা মন্ত্রী এসমাইল খাতিব, মেজর জেনারেল ইয়াহা রহিম সাফাভি-সহ ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তি।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযান। হামলা ক্রমশ আরও তীব্র হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা বাড়ছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনগুলিতে ইরানের বিরুদ্ধে এমন ধরনের অভিযান চালানো হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা আরও শক্তিশালী হামলার পথে হাঁটব।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন তিনি এবং একটি পা হারিয়েছেন। এমনকি তাঁর যকৃতেও গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে দাবি করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে তেহরানের সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সি এই নেতা। যদিও ইরান সরকার এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়কশিয়ানের পুত্র ইউসুফ পেজ়কশিয়ান জানিয়েছেন, দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা যে আরও বাড়ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


