নজরবন্দি ব্যুরো: দলের একনিষ্ঠ সৈনিকই নাকি বিগত বেশ কিছুদিন ধরে অভিমানী! কথা হচ্ছে মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষকে নিয়ে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে গুজরাত ভবনে গিয়ে দেখা করলেন দিলীপ। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল, সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদ হারানোর পর থেকেই কিছুটা ‘বিমর্ষ’ দিলীপ ঘোষ। এমনকি তিনি বিজেপি ছেড়ে দিতে পারেন বলেও জল্পনা শুরু হয়। গুঞ্জন আরও তীব্র হয়, যখন তড়িঘড়ি দিলীপকে তলব করেন অমিত শাহ। এই মূহূর্তে কিন্তু শাহী-সাক্ষাৎ সমাপ্ত হয়েছে দিলীপের। এখন প্রশ্ন, দিলীপের ‘অভিমান’ ভাঙাতে পারলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?
আরও পড়ুন: সাময়িক শান্ত থাকার পরে ফের উত্তপ্ত মণিপুর, গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত্যু তিন জনের
অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে মুখ খুলতে একেবারেই নারাজ দিলীপ ঘোষ। একটি প্রথম সারির বাংলা সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানিয়েছেন, ‘‘সব আলোচনাই কি বলা যায়! কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আমার যে কথা, তা যদি প্রকাশ্যেই বলার হত, তবে তো সাংবাদিক বৈঠক করেই জানানো হত।’’ সঙ্গে এও বলেছেন, “আমায় নিয়ে যে সব জল্পনা চলে তা আমি সবার পরে জানতে পারি। মজা লাগে। সামনে লোকসভা নির্বাচন। এখন কোনও জল্পনা নয়, ভোটের প্রস্তুতিতেই সকলের মন দেওয়া উচিত।”

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে সাংসদ হিসেবে জেতার পর অনেক বিজেপি কর্মী সমর্থকই আশা করেছিলেন যে, দিলীপকে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও তা হয়নি। সেই সময় রাজ্যের সভাপতি ছিলেন তিনি। এরপর একুশের বিধানসভার পর সভাপতি পদে বসানো হয় সুকান্ত মজুমদারকে। সরিয়ে দেওয়া হয় দিলীপকে। সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করেও সম্প্রতি সেই পদ থেকেও তাঁকে নিষ্কৃতি দেবার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ কথাও রাজনৈতিক বিষয়ে ওয়াকিবহাল জনতার জানা।

বারবার কেন দিলীপকেই ‘বলির পাঁঠা’ হতে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। যদিও দিলীপ জানিয়েছিলেন, আগামী বছর লোকসভাকে মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কথাটা যদিও খুব ভুল বলেননি দিলীপ, বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় তালিকা দেখলে দেখা যাবে, সত্যিই তাই আগামী লোকসভায় যারা নির্বাচনে লড়বেন সেই সিংহভাগ নেতাদেরকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক পদ থেকে, যাতে তাঁরা তাঁদের নিজেদের কেন্দ্রে ভোট প্রস্তুতিতে আরও সময় দিতে পারেন।

এখন আবার মনে করা হচ্ছে, যেহেতু এই মুহূর্তে দিলীপের কাছে সাংগঠনিক কোনও পদ নেই তাই আগামী বছর লোকসভায় বিজেপি জিততে পারলে এবার হয়তো কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাঁকে। একটা কথা সত্যি, রাজ্যে বিজেপির উত্থানে অনেকটাই ভূমিকা রয়েছে দিলীপের। তাই এভাবে বঞ্চিত হতে থাকলে দলের প্রতি ক্ষোভ বাড়াটা খুব অস্বাভাবিক নয়। সেটা অমিত শাহের মতো পোড়খাওয়া নেতা হয়তো বা কিছুটা বোঝেন, সেই কারণেই তাঁকে ডেকে কি কিছু প্রাপ্তির আশ্বাস দিলেন তিনি? এসবের উত্তর ফেলুদার ভাষায় ‘মা গঙ্গা’-ই জানেন!
দলের একনিষ্ঠ সৈনিকই নাকি এখন অভিমানী! দিলীপের ‘মান’ ভাঙল শাহী-সাক্ষাতে?




