সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকেছে আকাশ, সঙ্গে কখনও টানা ঝিরঝিরে, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি। বুধবার (৫ অগস্ট) ভোর থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এমন আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছেন মানুষ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবারের এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পিছনে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত কারণ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (India Meteorological Department)-এর তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে বিহারের উপর অবস্থান করছে একটি নিম্নচাপ। এই দুই ব্যবস্থার যৌথ প্রভাবে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনও একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
কলকাতার আকাশ সারাদিনই মূলত মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৯৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে, ফলে ভ্যাপসা অস্বস্তিও বজায় থাকবে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কলকাতায় ১৪.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বুধবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হতে পারে। ওই দিন বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির এই পর্ব চলবে। তবে শনিবার থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধস বা জল জমার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি সপ্তাহের শেষভাগ পর্যন্ত বৃষ্টির প্রভাব বজায় থাকলেও শুক্রবারের পর উত্তরবঙ্গে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একইভাবে দক্ষিণবঙ্গেও শনিবার থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলির বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



