সপ্তম পে কমিশন নিয়ে জোর জল্পনা পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মী। কমিশন কার্যকর হলে বেতন কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা প্রশাসনিক মহলে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার সপ্তম পে কমিশন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে। এরপর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সময় যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রযোজ্য হয়েছিল, সেটিই যদি আবার ব্যবহার করা হয়, তাহলে বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালুর সময় ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই ফর্মুলার ভিত্তিতেই মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই পদ্ধতি সপ্তম পে কমিশনের ক্ষেত্রেও কার্যকর হলে নিম্নতম বেতনের কর্মীদের আয় বড়সড় বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে যাঁদের মূল বেতন ১৭,০০০ টাকা, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। সেই হিসেবে মাসিক বেতন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪২,৫০০ টাকায়। যদিও এটি এখনও সম্ভাব্য হিসাব, সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
তবে বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে কমিশনের সুপারিশ, ডিএ কাঠামো, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উপর। ফলে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।


সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো সংশোধনের দাবি উঠছিল। নতুন কমিশন কার্যকর হলে কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি মিলতে পারে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন কাঠামোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সপ্তম পে কমিশন শুধুমাত্র আর্থিক বিষয় নয়, এটি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সরাসরি জড়িত।
এখন নজর কমিটির সুপারিশ এবং রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সপ্তম পে কমিশন বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট হলে তবেই সরকারি কর্মীরা জানতে পারবেন, তাঁদের বেতন কতটা বাড়তে চলেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



