১৩-১৫ অগস্ট দুর্যোগের আশঙ্কা, দক্ষিণবঙ্গে ৯ দফা সতর্কতা জারি প্রশাসনের

১৩ থেকে ১৫ অগস্ট দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রশাসনকে ৯ দফা নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণবঙ্গে ফের সক্রিয় দুর্যোগের আশঙ্কা। ১৩ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা-বাংলাদেশ উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাশাসক এবং KMC-HMC কমিশনারদের জন্য ৯ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৩ অগস্ট গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিচ্ছিন্ন ভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার ১৪ অগস্ট কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী এবং শনিবার ১৫ অগস্ট কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এর পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ১৪ অগস্ট পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য জলমগ্নতা, নদীবাঁধের সমস্যা এবং ঝড়বৃষ্টিজনিত বিপর্যয় সামলাতে প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের জল মিললে জলনিকাশি ব্যবস্থা চাপে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই কলকাতা ও হাওড়ার মতো শহরে পাম্প এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের ৯ দফা নির্দেশ

১. ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুমে নজরদারি

১৫ অগস্ট পর্যন্ত সমস্ত EOC এবং কন্ট্রোল রুমে ২৪ ঘণ্টা সিনিয়র অফিসার মোতায়েন রাখতে হবে। আবহাওয়া ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের উপর নিরবচ্ছিন্ন নজর রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

২. নিচু এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্কতা

জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের আগে থেকেই সতর্ক করতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে যাতে দ্রুত তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই প্রস্তুতিও রাখতে হবে।

৩. নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে

ভারী বৃষ্টির জল দ্রুত বের করার জন্য ড্রেন, নালা এবং জলনিকাশি চ্যানেল পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও জল বেরনোর পথ আটকে রয়েছে কি না, তা আগেই পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. নদীবাঁধে বাড়তি নজরদারি

নদীবাঁধ, Embankment এবং Flood Control Structure-এর দুর্বল অংশগুলিতে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতি বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেচ দফতরকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

৫. ‘সাঁড়াশি বান’-এর আশঙ্কায় প্রস্তুতি

ভারী বৃষ্টির সঙ্গে মরসুমের উচ্চ জোয়ার বা ‘সাঁড়াশি বান’ মিললে কলকাতা, হাওড়া-সহ শহরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পাম্প প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। কোথাও জল জমলে দ্রুত তা বের করার পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬. ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় SDRF মোতায়েন

আগামী তিন দিন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে SDRF কর্মীদের বিকেন্দ্রীকৃত ভাবে মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোথাও বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারবে।

৭. PWD, বিদ্যুৎ ও দমকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে

PWD, WBSEDCL, CESC এবং Fire & Emergency Services-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থাকে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। গাছ পড়া, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

৮. জরুরি প্রয়োজনে এই নম্বরে যোগাযোগ

দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে 112, 1070 এবং 86979 81070 নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিপদের সময় দ্রুত প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই নম্বরগুলি ব্যবহার করা যাবে।

৯. পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত

সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় বিকেন্দ্রীকৃত ভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখতে হবে। কোথাও পরিস্থিতি খারাপ হলে যাতে কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে সরবরাহের অপেক্ষা না করে দ্রুত দুর্গতদের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাই করতে বলা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার ঝুঁকি নতুন নয়। সরকারি নথিতেও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা এবং কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময়ে জলমগ্নতার ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে।

তাই আগামী কয়েক দিন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষ করে নিচু এলাকা, নদী ও উপকূল সংলগ্ন অঞ্চল এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন শহরাঞ্চলে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ১৩ থেকে ১৫ অগস্টের বৃষ্টির পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়, এখন সেদিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন