জেন জ়ি-র আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মুখ খুললেন কঙ্গনা রনৌত (Kangana Ranaut)। এবার তাঁর মন্তব্যের নিশানায় বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজ়মি (Shabana Azmi)। যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ভিড়ের বড় অংশকে প্রকৃত জেন জ়ি নয় বলে দাবি করে কঙ্গনা বলেছেন, সেখানে ‘অর্ধেকেরও বেশি’ মানুষ শাবানা আজ়মির মতো বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
জেন জ়ি-র আন্দোলন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরব মান্ডির বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-কে নিয়ে আন্দোলনকারীদের একাংশের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি তাঁদের ‘Gutter Generation’ বা ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকি আন্দোলনের ভিডিয়োগুলিকেও ‘বমি উদ্রেককারী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
সেই মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পরে অবশ্য নিজের অবস্থান কিছুটা ব্যাখ্যা করে কঙ্গনা দাবি করেন, তিনি গোটা জেন জ়ি প্রজন্মকে আক্রমণ করেননি। বরং যন্তর মন্তরে সেদিন উপস্থিত নির্দিষ্ট একটি ভিড়ের আচরণ নিয়েই তাঁর আপত্তি ছিল। এবার সেই বক্তব্যই আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বিজেপি সাংসদ।
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে কঙ্গনা বলেন, দেশে জেন জ়ি-র সংখ্যা যদি ৩০-৩৫ কোটি হয়, তাহলে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে মাত্র কয়েক হাজার মানুষকে দেখে সেটিকে গোটা প্রজন্মের প্রতিবাদ বলা যায় না। তাঁর দাবি, সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র আনুমানিক ২ হাজার জনকে প্রকৃত জেন জ়ি বলা যেতে পারে।
এই প্রসঙ্গেই শাবানা আজ়মির নাম টেনে আনেন কঙ্গনা। তাঁর বক্তব্য, বিক্ষোভস্থলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিলেন এবং উপস্থিত জনতার বড় অংশই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ছিলেন না। তাই সেই জমায়েতকে ‘জেন জ়ি-র প্রতিবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁর।
কঙ্গনা আরও দাবি করেন, তিনি তরুণদের বিরুদ্ধে নন। বরং নিজেকেও তরুণ প্রজন্মের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, জেন জ়ি দেশের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। নতুন প্রজন্মকে দেশের জন্য বড় সম্পদ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তবে শাবানা আজ়মির নাম টেনে কঙ্গনার এই বক্তব্যই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের ওই আন্দোলনে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শাবানার একাধিক মুহূর্তের ভিডিয়োও সামনে এসেছিল। কখনও পড়ুয়াদের আলিঙ্গন করতে, কখনও তাঁদের হাতে চুম্বন করে উৎসাহ দিতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি বিবেচনা করার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি।
আন্দোলনের মাঝেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শাবানা। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিক্ষোভস্থল ছেড়ে যাননি তিনি। যন্তর মন্তর থেকেই ভিডিয়ো বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
শাবানা জানিয়েছিলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিত।
আন্দোলনের মঞ্চে নিজের বাবা কবি কাইফি আজ়মির (Kaifi Azmi) লেখা কবিতাও আবৃত্তি করেছিলেন শাবানা। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য অনেক সময় বড় হলেও সত্যকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা যায় না—এই বার্তাই দিয়েছিলেন তিনি।
ফলে কঙ্গনার সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। একদিকে কঙ্গনা দাবি করছেন, তাঁর বক্তব্য গোটা জেন জ়ি-কে উদ্দেশ্য করে ছিল না; অন্যদিকে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া শাবানা আজ়মির নাম টেনে তাঁর মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন দেখার, কঙ্গনার এই বক্তব্যের পর শাবানা আজ়মি বা আন্দোলনকারীদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না। আপাতত জেন জ়ি-র আন্দোলন ঘিরে কঙ্গনার মন্তব্যের তালিকায় আরও একটি বিতর্কিত অধ্যায় যোগ হল।



