দু’বছর নতুন বেসরকারি স্কুল-কলেজে অনুমোদন নয়! বড় ঘোষণা সুকান্তের, শিক্ষাক্ষেত্রে কড়া অবস্থান রাজ্য সরকারের

শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না—এই বার্তা দিয়েই আগামী দু’বছর নতুন কোনও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন না দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে পুরনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নথি ও অডিট রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

West Bengal Education News: পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় নীতিগত পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। আগামী দু’বছর নতুন কোনও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মুখোপাধ্যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, অতীতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠনে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার।

রাজ্যে জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ এবং শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মুখোপাধ্যায় জানান, পরবর্তী দুই বছর নতুন কোনও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে না।

- Advertisement -

এর ফলে আপাতত নতুন করে কোনও বেসরকারি স্কুল, কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিএড কলেজ বা অন্যান্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমতি মিলবে না বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই চালু থাকা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অডিট রিপোর্ট, আর্থিক নথি এবং অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্রও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

সরকারি সূত্রের মতে, আগের সরকারের আমলে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও, তাদের একাংশের বিরুদ্ধে অনুমোদন প্রক্রিয়া, রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতেই এবার আরও কঠোর নজরদারির পথে হাঁটছে সরকার।

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট বার্তা দেন, “শিক্ষাকে পণ্য হতে দেওয়া হবে না।” তাঁর মতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই সরকার এই পদক্ষেপ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তিনি জানান।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এদিন আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় পিএম-ঊষা (PM-USHA) প্রকল্পের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট কেন্দ্রের কাছে জমা না পড়ায় রাজ্য সেই প্রকল্পের অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় নথি জমা না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় অনুদান আটকে যায় এবং রাজ্যও প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি।

- Advertisement -

তবে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই পিএম-ঊষা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান সুকান্ত মুখোপাধ্যায়। প্রয়োজনীয় ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দ্রুত কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের অর্থ পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানোন্নয়নকে সামনে রেখে সরকারের এই নতুন নীতি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর