পঞ্চায়েতে ১১ হাজার চাকরির বড় ঘোষণা! ডিসেম্বরেই শুরু হবে নিয়োগ, এবার পুরো প্রক্রিয়া হবে পিএসসি-র মাধ্যমে

পঞ্চায়েতে কর্মী-সংকট কাটাতে ১১ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা। ডিসেম্বর থেকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানাল রাজ্য সরকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরে (Panchayat Department) দীর্ঘদিনের কর্মী-সংকট কাটাতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল সরকার। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ১১ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবার আর জেলা স্তরে নয়, সম্পূর্ণ নিয়োগ হবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (Public Service Commission)-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে।

সোমবার বিধানসভার (West Bengal Legislative Assembly) বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় রাজ্যের বহু পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই বৃহৎ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এতদিন পঞ্চায়েত আইনের আওতায় জেলা ভিত্তিক নিয়োগ করা হতো। তবে নতুন সরকার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চায়। এবার নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হবে পিএসসি-কে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, অভিন্ন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়।

তবে এই পরিবর্তন কার্যকর করতে আইনি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন দিলীপ। কারণ, পঞ্চায়েত নিয়োগ বর্তমানে একটি স্বশাসিত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। তাই পিএসসি-র হাতে নিয়োগের দায়িত্ব দিতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করতে হবে।

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এক লক্ষ কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, পঞ্চায়েত দফতরে এই ১১ হাজার নিয়োগ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের লক্ষ্য দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করে গ্রামীণ প্রশাসনের গতি ফিরিয়ে আনা।

পঞ্চায়েতে কর্মী-সংকট নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্যের বহু পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজ থমকে রয়েছে। অনেক জায়গায় বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদত্যাগ বা অনুপস্থিতির কারণে সরকারি প্রকল্পের কাজও আটকে রয়েছে।

এর আগে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন দিলীপ। দায়িত্ব পালন না করলে কঠোর পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, অনেক এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও স্বাক্ষর না মেলায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এবার ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা সেই প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ডিসেম্বর থেকেই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন