স্কুলপড়ুয়াদের মিড ডে মিল (Mid-Day Meal)-এ সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। আপাতত ডিম সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের উপরেই। বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবন (Bikash Bhavan)-এ আয়োজিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্কুলে ইসকনের অন্নামৃত ফাউন্ডেশন (ISKCON Annamrita Foundation) মিড ডে মিল সরবরাহ করে, সেই স্কুলগুলির প্রতিনিধিদের এই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল।
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার জন্য প্রতি ছাত্রছাত্রীর পিছনে ১৬ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের জন্য ধরা হয়েছে ৮ টাকা। তবে এই অর্থ প্রথমে স্কুলগুলিকেই নিজেদের কম্পোজিট গ্রান্ট থেকে খরচ করতে হবে। পরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিল জমা দিলে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ডিম সরবরাহের জন্য শিক্ষা দপ্তর একাধিক বিকল্পও সামনে রেখেছে। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে সেদ্ধ ডিম কিনে পড়ুয়াদের দেওয়া যেতে পারে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, বর্তমান বাজারদরে মাত্র ৮ টাকায় ডিম কিনে তা সেদ্ধ করে সরবরাহ করা বাস্তবে কঠিন। ফলে এই দামে কোনও সংস্থা দায়িত্ব নিতে রাজি হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে নদিয়ার হরিণঘাটা ফার্ম (Haringhata Farm) থেকে সরাসরি ডিম সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এর ফলে কম খরচে নির্ভরযোগ্যভাবে ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছোট স্কুলগুলির জন্যও আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম, সেখানে ডিম সেদ্ধ করার জন্য ইলেকট্রিক হিটার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রান্নার কাজে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ৫০ জন পড়ুয়ার জন্য একজন এবং ৫০০ জন পড়ুয়ার জন্য ছয়জন রাঁধুনি ও সহায়িকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার বহু স্কুলে বর্তমানে মিড ডে মিল সরবরাহ করে ইসকনের অন্নামৃত ফাউন্ডেশন। সেই দায়িত্ব দেওয়ার পর মিড ডে মিল থেকে আমিষ খাবার, বিশেষ করে ডিম বাদ পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিতর্ক শুরু হয়েছিল। পরে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই এবার নতুন প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশ কার্যকর হলে স্কুলগুলিকে দ্রুত ডিম সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এখন নজর থাকবে, নতুন এই ব্যবস্থা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং পড়ুয়ারা কবে থেকে নিয়মিত সপ্তাহে দু’দিন ডিম পেতে শুরু করে।



