বাংলায় প্রথম ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ অভিযান, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশাল তেরঙ্গা যাত্রা

স্বাধীনতা দিবসের আগে ভবানীপুরে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাজরা পর্যন্ত বিশাল তেরঙ্গা যাত্রায় যোগ দিলেন হাজার হাজার মানুষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে শুরু হল ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ (Har Ghar Tiranga) কর্মসূচি। শুক্রবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে (Bhabanipur) এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত আয়োজিত বিশাল তেরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। রাজপথ জুড়ে দেখা যায় জাতীয় পতাকার ঢেউ, যা ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) কয়েক বছর আগে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আগে এই উদ্যোগ সেইভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন সরকারের আমলে প্রথমবার বৃহৎ আকারে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি শাসক শিবিরের।

শুক্রবারের তেরঙ্গা যাত্রায় ভবানীপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস চট্টোপাধ্যায় (Tapas Chatterjee), স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (Dipak Barman) এবং বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিপুল জনসমাগমে গোটা এলাকা জাতীয় পতাকায় সেজে ওঠে।

হাজরা মোড়ে পৌঁছে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা পর্যন্ত এই তেরঙ্গা যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা হল। এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১০ অগস্ট আরও বড় তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হবে। তাঁর দাবি, নেতাজি মূর্তি (Netaji Statue) থেকে শুরু হয়ে বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium)-এর ৭ নম্বর গেট পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেবেন। সকলকে সেই যাত্রায় যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘দিল সে তেরঙ্গা, প্যায়ার সে তেরঙ্গা, হর ঘর তেরঙ্গা’—এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রতি ভালোবাসা, জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেমকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন একটি ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার’ কাজ করছে এবং সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ভবানীপুরের একটি গুরুদ্বারেও যান মুখ্যমন্ত্রী। গেরুয়া পাগড়ি ও সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরে তিনি গুরুদ্বারে প্রার্থনা করেন। এরপর অন্য ভক্তদের সঙ্গে লঙ্গর (Langar)-এর সেবায় অংশ নেন। নিজে হাতে ভক্তদের খাবার পরিবেশন করেন, বাসন পরিষ্কার করেন এবং পরে সকলের সঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন।

পরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভবানীপুরের বিধায়ক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানুষের সেবা করাকে তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর