সরকারি কর্মীদের জন্য বদলি সংক্রান্ত আর্থিক সুবিধায় বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে বাসস্থান পরিবর্তন করলে এবার বদলি ও মালপত্র গোছানোর খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়া যাবে। বিকল্প হিসেবে এককালীন মূল বেতনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থও দেওয়া হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই সুবিধা পেতে মালপত্র সরানোর খরচের কোনও রসিদ বা ভাউচার জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তের কথা সোশাল মিডিয়ায় জানান। রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘ট্রান্সফার গ্রান্ট’ এবং ‘প্যাকিং অ্যালাউন্স’-এর বদলে আরও সরল ও উন্নত ‘কম্পোজিট ট্রান্সফার অ্যান্ড প্যাকিং গ্রান্ট’ চালু করা হচ্ছে।
সরকারের বক্তব্য, এই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য বদলির সময় সরকারি কর্মীদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ঝামেলা কমানো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষের সেবায় নিয়োজিত সরকারি কর্মীদের কল্যাণ ও মঙ্গলের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
অর্থদপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাসস্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এমন ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল ৩০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরে হলে কর্মীরা পূর্ণ হারে এই অনুদান পাবেন। তবে বদলির দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের কম হলে প্রযোজ্য হবে এক-তৃতীয়াংশ হারে অনুদান।
শুধু কর্মরত সরকারি কর্মীরাই নন, অবসর গ্রহণের পর নতুন কোনও জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে যাওয়া কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। অর্থাৎ চাকরি শেষ হওয়ার পর বাসস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত মেনে এই আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
নতুন নিয়মে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। কোনও সরকারি কর্মী পরিবারকে সঙ্গে না নিয়েও নতুন কর্মস্থলে চলে গেলে এবং নিজের ব্যক্তিগত মালপত্র সরিয়ে নিলে তিনি অনুদানের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
এছাড়াও ব্যক্তিগত মালপত্রের পরিমাণের সঙ্গে অনুদানের অঙ্কের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। অর্থাৎ কতটা মালপত্র সরানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে আলাদা করে খরচের হিসাব দেখানোর প্রয়োজন হবে না। রসিদ বা ভাউচার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকছে না।
নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখও জানানো হয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে ১ জুন ২০২৬ থেকে এবং অবসর গ্রহণের ক্ষেত্রে ৩১ মে ২০২৬ থেকে ‘কম্পোজিট ট্রান্সফার অ্যান্ড প্যাকিং গ্রান্ট’ কার্যকর হবে। ফলে চলতি অর্থবর্ষেই বহু সরকারি কর্মী এই সংশোধিত সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
সব মিলিয়ে, বদলির সময় সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন এই অনুদান ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি সরল হতে চলেছে। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অথবা মূল বেতনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন সুবিধা এবং রসিদ-ভাউচারের ঝামেলা না থাকায় বদলি হওয়া কর্মীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



