খাদ্য সুরক্ষা সূচকে ষষ্ঠ স্থানে বাংলা, রাজ্যের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট কলকাতা হাই কোর্ট

খাবারে ভেজাল রুখতে রাজ্যের পদক্ষেপে সন্তোষ কলকাতা হাই কোর্টের। খাদ্য সুরক্ষা সূচকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ, আরও ল্যাব ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

খাদ্য সুরক্ষা সূচকে ষষ্ঠ স্থানে বাংলা—খাবারে ভেজাল রুখতে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। কাঁচা সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস, দুধ, ফল, রাস্তার খাবার এবং বিভিন্ন পানীয়ে ভেজাল ও কৃত্রিম রঙের অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই আদালত জানায়, খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। খাদ্য সুরক্ষা সূচক কীভাবে নির্ধারিত হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় https://en.wikipedia.org/wiki/Food_safety এ।

আদালতে রাজ্যের কৌঁসুলি জানান, ২০১৯ সালে দেশের খাদ্য সুরক্ষা সূচকে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান ছিল ১৫তম। কিন্তু ধারাবাহিক নজরদারি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে বর্তমানে সেই স্থান উঠে এসেছে ষষ্ঠে। আদালত এই উন্নতিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে।

ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি চলবে না। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরকে নিয়মিতভাবে খাদ্যপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। যদি কোনও ব্যবসায়ী খাদ্যপণ্যে ভেজাল বা অনিয়ম করেন, তবে খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালত আরও জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে কর্মীর অভাব যেন না থাকে। যদি কোথাও শূন্যপদ থাকে, তবে দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সেই পদ পূরণ করতে হবে। এর ফলে খাদ্যের মান যাচাই ও নজরদারির কাজ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

রাজ্যের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জেলা, পুরসভা এবং ব্লক স্তরে মোট ১৭৬ জন ফুড সেফটি অফিসার কাজ করছেন। এর পাশাপাশি জেলাগুলিতে রয়েছেন ২৮ জন আধিকারিক এবং ৩ জন রাজ্য খাদ্যদ্রব্য তদন্তকারী আধিকারিক। নিয়ম অনুযায়ী ফুড সেফটি অফিসাররা প্রতি মাসে অন্তত ২৫টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠান। সেই পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে আরও জানানো হয়েছে, খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পরিকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যে ৩০টি চলমান পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাব) রয়েছে, যা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরাসরি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করতে পারে।

এর পাশাপাশি সম্প্রতি একটি নতুন মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে খাদ্য পরীক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আরও তিনটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাগার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।

সবদিক বিবেচনা করে আদালত জানিয়েছে, রাজ্যের গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক এবং খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে একইভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। এরপরই জনস্বার্থ মামলাটির নিষ্পত্তি ঘোষণা করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত