ভোটের প্রাক্কালে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়াল রাজ্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একযোগে ১০০ জন পুলিশ আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশ—এই অফিসারদের কেউই যেন ভোটের কোনও কাজে যুক্ত না থাকেন।
শুক্রবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৮১ জন ইন্সপেক্টর এবং ১৯ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-কে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে এবং সম্ভাব্য প্রভাবমুক্ত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকেই এই তালিকায় নাম রয়েছে। কোচবিহার, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, আলিপুরদুয়ার, শিলিগুড়ি, বারাসত, বারাকপুর, বিধাননগর, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ, বীরভূম—বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এই বদলির প্রভাব পড়েছে।
ইন্সপেক্টরদের দীর্ঘ তালিকায় যেমন রয়েছেন কুণালকান্তি দাস, হেমন্ত শর্মা, উদয়শংকর ঘোষ, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে অনির্বাণ বসু, অশোকতরু মুখোপাধ্যায়, সুজিতকুমার পতি, তন্ময় ভট্টাচার্য, সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্লোল ঘোষ, সঞ্জয় কুণ্ডু-সহ আরও অনেক নাম। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে কার্যত একযোগে বড়সড় রদবদল ঘটল রাজ্য পুলিশের কাঠামোয়।
অন্যদিকে, ১৯ জন এসআই-কেও একইভাবে ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বারুইপুর, সুন্দরবন, বারাসত, বনগাঁ, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, হাওড়া গ্রামীণ ও মুর্শিদাবাদ—এই সব পুলিশ ডিভিশনের একাধিক অফিসার এই তালিকায় রয়েছেন।
নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব আধিকারিককে শুক্রবার দুপুর ৩টার মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ভোটের আগে কড়া বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।



