দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এক কিস্তিতেই মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই ঘোষণার মাঝেই উঠে এসেছে অসন্তোষ ও প্রশ্ন—সব কর্মী কি সত্যিই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রাপ্য পাবেন?
কী জানাল রাজ্য
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ মার্চ জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মীদের পরিবার—সকলেই বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশ পাবেন।
- অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, ফ্যামিলি পেনশন প্রাপক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে
- গ্রুপ A, B ও C কর্মীদের ক্ষেত্রে অর্থ জমা পড়বে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশও এখন মেটানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ ও সরকারের পদক্ষেপ
ডিএ সংক্রান্ত মামলায় Supreme Court of India রাজ্যকে ৩১ মার্চের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
যদিও সময় বাড়ানোর আবেদন এখনও বিচারাধীন, তার মধ্যেই রাজ্য বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে—যা প্রশাসনিক তৎপরতার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারা এখনও বঞ্চিত?
তবে সব মহলেই স্বস্তি নেই। অভিযোগ উঠেছে—
- স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী
- পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মী
- স্থানীয় প্রশাসনের অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা
এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পাচ্ছেন না।
বামপন্থী কর্মচারী সংগঠনের নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর দাবি, প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে অনেক কর্মী এখনও বঞ্চিত। অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ সরাসরি অভিযোগ তুলেছে, শিক্ষা দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই বিলম্ব।
সরকারের পাল্টা যুক্তি
তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সব কিছু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি হিসেব পাঠালেই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীসহ অন্যান্য কর্মীরাও বকেয়া ডিএ পাবেন। ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
নতুন পোর্টাল চালু
এই পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে অর্থ দপ্তর একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করেছে। সেখানে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব আপলোড করা হয়েছে। কর্মীরা নিজেরাই লগ ইন করে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ জানতে পারবেন।
চার বছরের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মেটানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা এখন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সব কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য পান কি না, সেটাই এখন নজরে।



