তৃণমূলের সময় কোভিড তহবিল নিয়েও বড় প্রশ্ন! ৬৫% বরাদ্দ খরচই হয়নি, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

কোভিড মোকাবিলায় কেন্দ্রের বরাদ্দ এবং পিএম কেয়ার্সের সরঞ্জাম ব্যবহারে একাধিক অসঙ্গতির উল্লেখ ক্যাগ রিপোর্টে। অক্সিজেন প্ল্যান্ট, ভেন্টিলেটর ও আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কোভিড-১৯ (COVID-19) অতিমারির সময় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের দেওয়া অর্থ ও সরঞ্জাম ব্যবহারে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠে এসেছে ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (Comptroller and Auditor General of India – CAG)-এর রিপোর্টে। বিধানসভায় পেশ হওয়া এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রের দেওয়া আর্থিক বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশ খরচই করা হয়নি। পাশাপাশি পিএম কেয়ার্স (PM CARES) তহবিল থেকে সরবরাহ করা বহু অক্সিজেন প্ল্যান্ট, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দীর্ঘদিন ব্যবহার না করেই পড়ে ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু ক্যাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেই বরাদ্দের বড় অংশ ব্যয় করা হয়নি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ₹৬৫৯.২৮ কোটি অব্যবহৃত থেকে যায়।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পিএম কেয়ার্স এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির আওতায় পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ৩২টি চালু ছিল। বাকি ৪৩টি প্ল্যান্ট কেন চালু করা হয়নি বা সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী, সে বিষয়ে রিপোর্টে কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য সরবরাহ করা চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগ। রিপোর্ট অনুযায়ী, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (Medical College and Hospital)-এ পিএম কেয়ার্সের আওতায় পাওয়া ৫টি ভেন্টিলেটর ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত গুদামেই পড়ে ছিল। আরও ৩টি ভেন্টিলেটর প্যাকেটবন্দি অবস্থায় হাসপাতালের স্টোরে রাখা ছিল এবং পরে সেগুলি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (Raiganj Medical College and Hospital) সম্পর্কেও। সেখানে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাওয়া ১৭টি আইসিইউ (ICU) ভেন্টিলেটর ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত চালু করা হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া পিএম কেয়ার্সের আওতায় সরবরাহ করা ৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর-ও দীর্ঘদিন হাসপাতালের স্টোরেই পড়ে ছিল বলে ক্যাগ জানিয়েছে।

রিপোর্টে উত্থাপিত এই পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ক্যাগের রিপোর্টে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক পর্যবেক্ষণ করা হলেও, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায় বা দুর্নীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় না। রিপোর্টে উল্লিখিত বিষয়গুলির ব্যাখ্যা বা জবাব সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে দেওয়া হতে পারে।

কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে এই রিপোর্টে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, সেগুলির জবাব এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন