‘ডিগ্রি বিক্রির দোকান’! রাজ্যে ২০৫টি বিএড কলেজে ভর্তি বন্ধ, তালিকায় আইটিআই-ফার্মা-পলিটেকনিকও

পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান যাচাইয়ের পর ২০৫টি বিএড কলেজে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ রাজ্যের। পাশাপাশি ১৪টি আইটিআইয়ের অনুমোদন বাতিল, ৩৮টি ফার্মাসি ও একটি পলিটেকনিকেও ভর্তি স্থগিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক ও ফার্মাসি কলেজগুলির পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠনের মান নিয়ে পরিদর্শনের পর বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ২০৫টি বিএড কলেজে নতুন পড়ুয়া ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৪টি আইটিআইয়ের অনুমোদন বাতিল, ৩৮টি ফার্মাসি কলেজে ভর্তি স্থগিত এবং একটি পলিটেকনিক কলেজকে নতুন পড়ুয়া ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও প্রতিষ্ঠানকে এখনই বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। বরং যেসব কলেজ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, শিক্ষক এবং পঠনপাঠনের মান বজায় রাখতে পারেনি, তাদের উন্নতির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ফের পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি মিলতে পারে।

- Advertisement -

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ডিগ্রি বিক্রির দোকান খুলে যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি চলতে না পারে, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দফতর যৌথভাবে বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক এবং ফার্মাসি কলেজগুলিতে পরিদর্শন চালায়।

বিএড কলেজগুলির ক্ষেত্রে প্রথম দফার পরিদর্শনের পর ১৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ৪৫১টি কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে ৯টি কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও জবাব দেয়নি বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলির জবাব খতিয়ে দেখে দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এবার সম্পূর্ণ নতুন পরিদর্শক দল পাঠানো হয়েছিল, যাতে আগের মূল্যায়নের প্রভাব ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়।

দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনে ২৩৭টি বিএড কলেজ নির্ধারিত মান পূরণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। ৪ নভেম্বর থেকে তাদের ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০৫টি কলেজ প্রয়োজনীয় মান পূরণ করতে পারেনি। তাই আপাতত তাদের নতুন পড়ুয়া ভর্তি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

- Advertisement -

এই কলেজগুলিকে পরিকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং পঠনপাঠনের মান উন্নত করতে হবে। সরকারের বক্তব্য, নির্ধারিত ঘাটতি পূরণ হলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ফের ভর্তি শুরুর অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ বিএড কলেজগুলির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী অনুমোদন বাতিল হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

শুধু বিএড নয়, কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্যের ২৬৫টি আইটিআই পরিদর্শনের পর ১৪টির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিকাঠামোই ছিল না।

ফার্মাসি কলেজের ক্ষেত্রেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৮টিতে নতুন পড়ুয়া ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে একটি কলেজকেও ভর্তি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিএড, আইটিআই, ফার্মাসি ও পলিটেকনিক মিলিয়ে ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভর্তি বা অনুমোদন সংক্রান্ত পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালানোর প্রবণতা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ।

তবে এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতে ইতিমধ্যে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আপাতত ঘোষণার মূল লক্ষ্য নতুন ভর্তি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্ধারিত মানে উন্নীত করার সুযোগ দেওয়া। তাই সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের আবেদন বা টাকা জমা দেওয়ার আগে সরকারি অনুমোদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর