নজরবন্দি ব্যুরোঃ এখন দিনটাই শুরু হয় কনকনে ঠান্ডা দিয়ে, ভোরের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক, খেজুরের রস, কম্বলের আড়মোড়া আর হু হু করা কাঁপুনির অনুভূতিটাই অন্য রকম। জাঁকিয়ে শীত অনুভব করছেন বঙ্গবাসী। হিমেল পরশে নামছে তাপমাত্রা। কবে আসবে কবে আসবে করে এবার এসেই গেল সে! শীতেই কাবু গোটা বাংলা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলেছে, আগামী কয়েকদিনে আরও কমবে তাপমাত্রার পারদ।
আরও পড়ুনঃ আচমকাই রাজ্যে ঊর্ধ্বমুখী কোভিড গ্রাফ, ওমিক্রন আবহে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা?


শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেটা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেটা কিনা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ। বৃষ্টির আপাতত কোনও সম্ভাবনা নেই। সকালের দিকে কুয়াশা থাকবে, দিনে পরিষ্কার আকাশ।
একধাক্কায় ৩ ডিগ্রি নেমেছিল পারদ। ডিসেম্বরের এই সময় পনেরোর কোটাতেই থাকে তাপমাত্রা। দিনভর আকাশ পরিষ্কার থাকলেও, রাতে তাপমাত্রা বেশ কমবে। কলকাতার সঙ্গে জেলার পারদও নিম্নমুখী। দুই থেকে তিন ডিগ্র তিন ডিগ্রি কমবে। খোলা ময়দান পেয়েই শক্তিশালী হতে শুরু করেছে উত্তুরে-পশ্চিমী বাতাস। তাতেই নামছে পারদ। তাই শুধু আগমনী নয়, দিনকয়েক থিতুও হবে শীত।
কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে মূলত পরিষ্কার আকাশ থাকবে। কলকাতা,পূর্ব মেদিনীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও পরিষ্কার আকাশ। উত্তরবঙ্গের জেলায় শীতের আমেজ ক্রমশ বাড়বে। শুষ্ক আবহাওয়া উত্তরবঙ্গেও। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার তারতম্যে জলীয়বাষ্প থাকায় কুয়াশা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি।


আবহাওয়াবিদরা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, শনিবারের পর থেকেই কলকাতার তাপমাত্রা নামতে শুরু করবে। শীতের আমেজ দক্ষিণবঙ্গে সপ্তাহের শেষে। পুবালি হাওয়ার প্রভাব কমবে বাড়বে উত্তুরে হাওয়ার দাপট। আগামী কয়েকদিন শুষ্ক আবহাওয়া রাজ্যে।
শীতে কি আবারও ব্যাঘাত ঘটতে পারে? কি বলছেন আবহাওয়া দফতর
এতটা পারদ-পতন কলকাতায় শেষ দেখা গিয়েছিল ২০১৬ সালে। তার আগে ২০০৫ সালে।২০১৬ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ২০০৫ সালে ছিল ১৮.২ ডিগ্রি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আর কোনও রকম অঘটন না ঘটলে আগামী কয়েকদিন রাজ্যে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া থাকবে। রোদ ঝলমলেও থাকবে আকাশ। বঙ্গবাসীদের কামনা, ফের যেন কোনও রকমের ‘ঝঞ্ঝা’ মাথাচাড়া না দিয়ে ওঠে।







