২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি কোনও কমিউনিটির বিরোধী নয়, বরং তারা তৃণমূল কংগ্রেসের নীতির বিরোধিতা করছে।
শুভেন্দুর সাফ বার্তা: “আমরা কারও বিরুদ্ধে নই”


শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন,
“আমরা কখনওই অন্য কোনও কমিউনিটির বিরুদ্ধে বলিনি। যে কমিউনিটির বিরুদ্ধে আপনাদের ক্ষ্যাপানো হচ্ছে, আমরা তাঁদের বিরোধী নই। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের নীতির বিরোধী।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল ভোটব্যাংকের রাজনীতি করছে এবং ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার বানাচ্ছে।
তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুললেন শুভেন্দু


বিজেপি নেতা আরও অভিযোগ করেন,
“তৃণমূল সরকারকে উন্নয়ন, চাকরি, শিল্প নিয়ে হিসাব দিতে হবে। কিন্তু তারা শুধু তোষণের রাজনীতি করছে।”
তিনি সরাসরি নাম নিয়ে বলেন,
“তৃণমূল নেতাদের মধ্যে আলামিন মণ্ডল, সাবির আলিরা সরস্বতী পুজো বন্ধ করেছেন।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
রাম নবমী ঘিরে বিজেপির মহাপরিকল্পনা
শুভেন্দু অধিকারী রাম নবমীকে কেন্দ্র করে বিজেপির বড় কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,
“আগামী মাসে রাম নবমী উপলক্ষে ১ কোটি হিন্দুকে রাস্তায় নামার ডাক দেওয়া হয়েছে।” এই ঘোষণা তৃণমূল-বিজেপির সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে এখন মূল লড়াই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ একটি বড় বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে। বিজেপি নিজেদের হিন্দু ভোটের সমর্থন বাড়াতে চাইছে, আর তৃণমূল বিজেপিকে ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য দায়ী করছে। ২০২৬ সালের ভোটের আগে এই রাজনৈতিক সংঘাত কতটা গভীর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







