নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা আবহে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারনে পড়ুয়ারা বিমুখ হয়েছে স্কুল থেকে। তেমন কোন উৎসাহই নেই স্কুলে পঠনপাঠন নিয়ে। হাতে গোনা ছাত্র ছাত্রী আর তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষক অপ্রতুলতা। সব মিলিয়ে নজিরবিহীন হাল শিক্ষার। টানা স্কুল বন্ধ থাকার কারনে শুরু হয়েছে বাল্য বিবাহ। শিশু শ্রমের মত বে-আইনি কাজ। পড়ুয়া না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ৩৩৯ টি স্কুল।
আরও পড়ুনঃ SSC: সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ, বদলে গেল মামলার গতিপ্রকৃতি


কোভিড-১৯ জন্য স্কুল খুলেছে প্রায় দেড় বছর পর। কিন্তু এখনও স্কুলে যেতে অনীহা পড়ুয়াদের। বিশেষত বেশ কয়েকটি জেলায় উপস্থিতির হার এতটাই কম যে তা চোখে পড়ার মত। সেই কারনে বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের চিঠি পাঠিয়েছে বিকাশ ভবন। শিক্ষার অধিকার থেকে একজনও যেন বঞ্চিত না হয় তাই দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন বহু স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা। কিন্তু পড়ুয়াদের দুয়ারে গিয়ে চোখ কপালে উঠছে শিক্ষকদের।
তেমনই এক নিদারুন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন হুগলির জাঙ্গিপাড়া ব্লকের নিলারপুর রাজা রামমোহন বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। স্কুল খুলে গিয়েছে দিন পনেরো। তবুও পড়ুয়ারা বিমুখ দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, ছাত্র ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে তাঁদের। সেইমতই শুরু হয় দুয়রে শিক্ষক অভিযান। কিন্ত যা অভিজ্ঞতা তাঁদের হয়েছে তা চক্ষু চড়কগাছ হওার মতই।
রাজা রামমোহন বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিভিন্ন পড়ুয়াদের বাড়ি গিয়ে দেখলেন অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ সন্তান মানুষ করছে। কেউ অন্তঃসত্ত্বা। বয়স? ১৩, ১৪ বড়জোর ১৫ বছর। তেমনই এক ছাত্রীর মা শিক্ষকদের জানিয়েছেন, “মেয়ের বয়স ১৪। নাতনির এক মাস।” আর একটি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা দেখলেন নবম শ্রেণীর ছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।


কেউ সন্তান মানুষ করছে, কেউ অন্তঃসত্ত্বা! পড়ুয়া খুঁজতে দুয়ারে হোঁচট শিক্ষকদের।

অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী কে জানতে চাইলে উত্তর দিতে এগিয়ে এলেন তাঁর দিদিমা। বললেন, “ওর বাবার মাথার সমস্যা। জেঠু-জেঠিমা ভাল পাত্র পেয়ে সম্বন্ধ করেছেন। নাতনি এখন সন্তানের জন্ম দেবে ঘরকন্যা করবে।” শিক্ষকরা প্রশ্ন করেন, পড়াশুনা করবে না? উত্তরে নিরুত্তর থাকেন ছাত্রী এবং তাঁর দিদিমা। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, নবম-দ্বাদশের সাড়ে পাঁচশোর বেশি ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সর্বাধিক উপস্থিতি ১১০! বাকিরা স্কুল ভুলে গিয়েছে!







