নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্যে ডেঙ্গু (Dengue) সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে খবর আসছে মৃত্যুর। আর এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রকাশিত হল ১৪ দফার গাইডলাইন। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে একটি বৈঠক করা হয় সমস্ত হাসপাতালের সুপার এবং জেলাগুলির স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে। সেখানেই এই গাইডলাইনের কথা জানানো হয়েছে সকলকে।
আরও পড়ুন: হু হু করে বাড়ছে হামের প্রকোপ, মৃত ১ শিশু
স্বাস্থ্য ভবনের ১৪দফা গাইডলাইনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের উপর। বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে অবিলম্বে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু রোগীকে প্রোটোকল অনুযায়ী চিকিৎসায় সড়গড় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাহাড়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে।
পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও ডেঙ্গু অনেকটাই কমেছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতায় সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই যেসব ওয়ার্ড বা পঞ্চায়েত এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, সেখানে লাগাতার পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে এদিনের প্রকাশিত প্রোটোকলে। হাসপাতালে ডেঙ্গু-তথ্য সংরক্ষণের জন্য একজন নন মেডিক্যাল সুপার নিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবনের ১৪দফা গাইডলাইনে বলা হয়েছে-
১.রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে ফিভার ক্লিনিকগুলি রয়েছে সেগুলিকে পুরো দমে চালু রাখতে হবে। এছাড়াও একটি রেজিস্ট্রার তৈরি করতে হবে যেখানে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের সম্পর্কে তথ্য রাখা এবং তাদের ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।
২. যেকোনো ব্যক্তির ডেঙ্গি পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট যাতে সেই দিনই পাওয়া যায় এই ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রত্যেকটি হাসপাতালে ২৪ ঘন্টার ল্যাব পরিষেবা চালু থাকবে।
৪. নিয়ম মেনে প্রতিদিন হাসপাতাল চত্বরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিচ্ছন্নতাই এডিস মশার আঁতুর ঘর তৈরি করছে। কাজেই নিয়ম করে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখার বিষয়টিতে বেশি জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।
৫. ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের দেখাশোনার জন্য যে সকল নার্সিং স্টাফেরা রয়েছেন তাদের কাজের সমস্ত সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।
৬. ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য প্লেটলেট এবং অন্যান্য রক্তের পরিষেবা একেবারে ত্রুটিহীন রাখতে হবে।
৭. প্রত্যেকটি হাসপাতালকে সজাগ থাকতে হবে যাতে প্রোটোকল মেনে ডেঙ্গি রোগীর চিকিৎসা হয়।
৮. ডিকেপিআই নামক একটি পোর্টালের ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি করতে হবে।
৯. প্রত্যেক সপ্তাহে স্টাফ মিটিং করতে হবে । ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের দেখাশোনার জন্য থাকা প্রত্যেক স্তরের কর্মীদের নিয়ে এই আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে । সেখানে নিয়মিত আপডেট দিতে হবে।
ডেঙ্গু ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের নয়া পদক্ষেপ, প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা
এরকমই আরও বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা হয়েছে রাজ্য দফতরের ওই গাইডলাইনে। বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রাজ্যে । কোনোভাবেই ডেঙ্গি সংক্রমণে রাশ টানা যাচ্ছে না। তাই পুনরায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে বিশেষ গাইডলাইন প্রকাশের সিদ্ধান্ত।



