বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে আদিবাসী বৃদ্ধদের পা ধুইয়ে দিলেন শুভেন্দু, সত্যিই ভোট বড় বালাই!

হুগলিতে বীরসা-মুন্ডার জন্মজয়ন্তীতে আদিবাসী বৃদ্ধদের পা ধুইয়ে সমালোচনার মুখে বিরোধী দলনেতা; তৃণমূলের অভিযোগ লোকদেখানো আদর

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু হলেই রাজনৈতিক নেতাদের নানা কর্মসূচি আলোচনায় আসে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই ছবি এবার ফের দেখা গেল। ভোট বড় বালাই—তা যেন আজ বুঝিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির সপ্তগ্রাম এলাকায় বীরসা-মুন্ডার জন্মসার্ধ্বশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আদিবাসী বৃদ্ধদের পা ধুইয়ে ও গামছা দিয়ে মুছে দিয়ে নজর কাড়লেন তিনি। আর সেই ছবিই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।

শনিবার সকাল থেকেই বীরসা-মুন্ডার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। সপ্তগ্রামে বীরসা-মুণ্ডার মূর্তিতে মাল্যদান করার পরই তাঁকে দেখা যায় কয়েকজন আদিবাসী বৃদ্ধকে চেয়ারে বসিয়ে তাঁদের পা ধুয়ে দিতে। আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ডুরে গামছা দিয়ে বৃদ্ধদের পা মুছে দেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা সেই ভিডিও নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে।

বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে আদিবাসী বৃদ্ধদের পা ধুইয়ে দিলেন শুভেন্দু, সত্যিই ভোট বড় বালাই!

বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে আদিবাসী বৃদ্ধদের পা ধুইয়ে দিলেন শুভেন্দু, সত্যিই ভোট বড় বালাই!
বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে আদিবাসী বৃদ্ধদের পা ধুইয়ে দিলেন শুভেন্দু, সত্যিই ভোট বড় বালাই!

বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রকৃত তফসিলি জাতিভুক্তদের অধিকার সুরক্ষিত করা। তাঁর দাবি, যারা এসটি নয়, তাদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দিয়ে প্রকৃত আদিবাসীদের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘জনগোষ্ঠী গ্রাম’ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যেখানে সৌর আলো, পাকা বাড়ি, শৌচালয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সাঁওতালি ভাষায় পড়াশোনার কেন্দ্র—এই সব সুবিধা থাকার কথা। শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্য সরকার সেই উন্নয়ন প্রকল্প এগোতে দিচ্ছে না।

তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রৌপদী মূর্মুকে রাষ্ট্রপতি করে প্রমাণ করেছেন যে কেন্দ্র আদিবাসী সমাজকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে চায়। তাই বীরসা-মুন্ডার জন্মদিনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁর কাছে “সম্মানের বিষয়”—এমনটাই বলেন তিনি।

কিন্তু বিতর্কের তীর ছুটে আসে তৃণমূলের দিক থেকে। ঘাসফুল শিবিরের মতে, এই ছবি সম্পূর্ণই ভোটের আগের লোকদেখানো আচরণ। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে, কিছুদিন আগেই বীরবাহা হাঁসদা—যিনি নিজে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে—তাঁকে জাত নিয়ে অপমান করেছিলেন শুভেন্দু। সেই ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। তাই এই ‘পা ধোয়ানো’ আসলে রাজনৈতিক মুখোশ ছাড়া কিছুই নয়—এমনটাই কটাক্ষ শাসকদলের।

তৃণমূলের এক নেতার মতে, “ভোট বড় বালাই। ভোট আসলেই হঠাৎ আদিবাসীদের কথা মনে পড়ে শুভেন্দু অধিকারীর। বছরভর তাঁদের উন্নয়নের জন্য কিছুই করেন না। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারই আদিবাসীদের জন্য প্রকৃত কাজ করে।”

দিনের শেষে বিরোধী দলনেতা তাঁর রাজনৈতিক বার্তাও দিতে ভোলেননি। তিনি দাবি করেন, বাংলায় ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এসআইআর (Special Summary Revision)-এর কাজ নিয়ে বঙ্গে প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে, আর বিহার নির্বাচনে এসআইআরের প্রভাব স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে সংবিধান অনুযায়ী ভোট হবে না। আর ভোট না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন ঘোষণা “অবশ্যম্ভাবী”—এই মন্তব্যেই ফের রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর