লোকসভায় ‘দুই ভারত’-এর প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সংসদীয় বক্তৃতার ক্লিপকেই রসিকতার মোড়কে ব্যবহার করলেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান বীর দাস। রাজনৈতিক বক্তব্য আর কমেডির মিশেলে তৈরি এই ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘দুই ভারত’ তত্ত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের একদিকে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর কথা বলা হলেও, অন্যদিকে ভাষা, খাদ্যাভ্যাস বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েই মানুষের প্রতি সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দুই ভারত’ শব্দবন্ধ প্রথম জনপ্রিয় করেছিলেন কমেডিয়ান বীর দাস।

সংসদে অভিষেক বলেন, “এক তরুণ কমেডিয়ান দুই ভারতের কথা বলেছিলেন। অনেকেই সেটায় হেসেছিলেন। কিন্তু তিনি শুধু হাসির জন্য বলেননি, আয়না দেখিয়েছিলেন। আমি সেই দুই ভারতের প্রতিনিধি।”
এই বক্তৃতার ভিডিও ক্লিপ বুধবার নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন বীর দাস। তবে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বদলে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে সেটিকে ব্যবহার করেন ওয়ার্ল্ড ট্যুর প্রচারের জন্য। ক্যাপশনে তিনি মজা করে লেখেন, “শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে…?” এরপরই বিদেশ সফরের সূচি ঘোষণা করেন।
বীরের এই পোস্টের প্রশংসা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “এই তো দ্বৈত ভারতের সৌন্দর্য—একটিতে ‘দুই ভারত’ নিয়ে কথা বলায় কমেডিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, আর অন্যটিতে সেই বিতর্কই ট্যুর ঘোষণার নিখুঁত প্রচার হয়ে ওঠে। গণতন্ত্রের সত্যিই রসবোধ আছে।”


প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টারে ‘I Come From Two Indias’ শিরোনামে একটি মোনোলগে দেশের নানা বৈপরীত্য তুলে ধরেছিলেন বীর দাস। সেই বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্কও হয়েছিল, এবং শাসক শিবিরের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
সম্প্রতি তাঁর ‘Sounds of India’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের অংশ হিসেবে কলকাতায়ও শো করেছেন বীর। সেখানে সংসদের বেঞ্চ চাপড়ানোর শব্দকে ‘গণতন্ত্রের আইকনিক সাউন্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যঙ্গও করেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে সংসদে অভিষেকের বক্তৃতা এবং সেটিকে কেন্দ্র করে বীর দাসের প্রচার কৌশল—দুই মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘দুই ভারত’ তত্ত্ব।








