Chandrayaan-3: শুরু হল না দ্বিতীয় ইনিংস, চিরঘুমের দেশে চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আশা ছিল, একবার চোখ মেলে তাকাবে বিক্রম আর প্রজ্ঞান। ইসরোর বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে গেলেন। কিন্তু হল নাহ্‌! ঘুম ভাঙল না চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিকের। বরং আবারও নিকষ কালো রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে চিরঘুমের দেশে চলে গেল তাঁরা। বলাই যেতে পারে, বিরাট কোনও মীরাকেল না হলে বিক্রম ও প্রজ্ঞানের পক্ষে আর কোনওদিন সক্রিয় হওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কঠিন, ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করুন, মমতাকে চিঠি অধীরের

না, ল্যান্ডার বিক্রম আর রোভার প্রজ্ঞান জাগেনি বলে কোনও হতাশা নেই। কারণ, তাঁরা তাঁদের সাধ্যমতো সমস্ত কাজ করে দিয়েছে। আসলে, আমরা আশা করতে ভালোবাসি। আর বিক্রম ও প্রজ্ঞানকে নিয়ে আশা না করার তো কারণও নেই! ভারতীয় বিজ্ঞানীদের উৎকৃষ্ট মস্তিষ্কের ফসল তাঁরা। সমস্ত কাজে সফল। তাই ভাবা হয়েছিল, আবারও জেগে উঠবে দুই ভাই। কিন্তু চাঁদের রাতে মাইনাস ২০০ ডিগ্রির হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা সহ্য করে জেগে ওঠা বাস্তবে সম্ভব নয়। ইসরোর চেয়ারম্যান এএস কিরণ কুমার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, “না, পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আর কোনও আশা নেই। যদি হওয়ার হত তাহলে এতক্ষণে হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। আর কোনও সুযোগ নেই।”

শুরু হল না দ্বিতীয় ইনিংস, চিরঘুমের দেশে চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিক
শুরু হল না দ্বিতীয় ইনিংস, চিরঘুমের দেশে চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিক

প্রসঙ্গত, ২৩শে অগস্ট চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল্ভাবে অবতরণ করে ল্যান্ডার বিক্রম। তারপর তার গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসে প্রজ্ঞান। সূর্যের আলোর সাহায্যে ১৪ দিন ধরে চাঁদে অনেকগুলি অনুসন্ধান চালিয়েছে প্রজ্ঞান। ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান তাঁদের সঙ্গে থাকা পোলেডের মাধ্যমে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। প্রথমত, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটির উষ্ণতা। দ্বিতীয়ত, চাঁদে কী কী খনিজ উপলব্ধ। তৃতীয়ত, চাঁদে ভূমিকম্প হয় কিনা। এই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিক্রম এবং প্রজ্ঞান। এরপর ধীরে ধীরে চাঁদে নেমে আসে রাত। কার্যকারিতা হারায় বিক্রম ও প্রজ্ঞান। ইসরোর তরফে দু’জনকেই ‘স্লিপ মোড’-এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শুরু হল না দ্বিতীয় ইনিংস, চিরঘুমের দেশে চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিক

শুরু হল না দ্বিতীয় ইনিংস, চিরঘুমের দেশে চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিক

২১শে সেপ্টেম্বর চাঁদে ফের সূর্য ওঠে। স্বপ্ন দেখা শুরু হয় ইসরোর বিজ্ঞানীদের। সূর্যের আলোর সাহায্যে যদি কোনওভাবে জাগিয়ে তোলা যায় বিক্রম আর প্রজ্ঞানকে। তাহলে হয়তো আরও কিছু অনুসন্ধান চালানো সম্ভব। কিন্তু দেখতে দেখতে কেটে গেল ১৪-১৫ দিন। চাঁদে আবার নামছে রাত। সূর্য ঢলে গিয়েছে পশ্চিমে। দক্ষিণ মেরুতে জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়তে চলেছে। ফলে কিন্তু, ঘুমিয়েই থাকতে হবে বিক্রম আর প্রজ্ঞানকে। একে বোধহয়, স্বেচ্ছামৃত্যুও বলা যায়। কুর্নিশ বিক্রম-প্রজ্ঞান! ভালো থেকো চাঁদের দেশে…  

শুরু হল না দ্বিতীয় ইনিংস, চিরঘুমের দেশে চন্দ্রযানের দুই বিশ্বস্ত সৈনিক

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত