নজরবন্দি ব্যুরো: মার্কিন প্রশাসনের একটি অংশের দাবি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিনের থেকে সাহায্য চেয়েছে রাশিয়া। সামরিক অস্ত্র এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সাহায্যও চেয়েছে রাশিয়া। সেই প্রসঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান রবিবার চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করলে চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ!


মার্কিন উপদেষ্টা বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো দেশ রাশিয়াকে সহায়তা করবে আমরা তা সহ্য করব না। সহায়তা করলে অবশ্যই তাদেরকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক শক্তিশালী দুই দেশ চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের উন্মুক্ত চ্যানেল রক্ষার্থে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান আগামী সোমবার ইতালিতে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ইয়াং জিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়ায় একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধুদেশ গুলো। সেই নিষেধাজ্ঞা না মানলে পরিণতি হবে ভয়াবহ, এই মর্মেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা।
১৯ দিন হল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর থেকে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। রুশ বাহিনী প্রতিদিনই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরকে নিশানা করেছে। রাশিয়ার গোলাগুলিতে ইউক্রেনের বহু শহর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। প্রাণের ভয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন প্রতিবেশী দেশগুলিতে। কার্যত মৃত্যু মিছিল চলছে দেশজুড়ে। উদবিঘ্ন ভারতও।


গতকাল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশটির পশ্চিম দিকে আক্রমণ। দেশটির পশ্চিম অংশে যেভাবে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা মোটেই সুখকর নয়। এই অবস্থায় দূতাবাস সাময়িক ভাবে সরিয়ে পোল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরবর্তী অবস্থা থেকে পরিস্থিতি বিচার করা হবে।”
সহায়তা করলে চরম পরিণতি, রাশিয়া নিয়ে চীনকে হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

অন্যদিকে, গতকাল পোল্যান্ড লাগোয়া পশ্চিম ইউক্রেন সীমান্তে লিভিভ শহরে রুশ সেনার হানায় নিহত হয়েছেন মার্কিন সাংবাদিক ব্রেন্ট রিনাড। তার সঙ্গে সহযোগী চিত্র সাংবাদিকও গুরুতর জখম হয়েছেন। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হবার আগে থেকেই তিনি ইউক্রেনে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসে সেনা প্রধানের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করছেন। জানা গিয়েছে আহত ও নিহতদের অন্যত্র সরিয়ে আনতে ইউক্রেনে মার্কিন সেনা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে হোয়াইট হাউস।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



