রুশ তেল কিনলেই ভারতের পণ্যে ১০০% শুল্ক! ট্রাম্পের বিল সেনেটে পাস, নিশানায় আরও ৪ দেশ

রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা পাঁচ বৃহৎ দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে বিল পাস মার্কিন সেনেটে। ভারতের উপরও তৈরি হয়েছে বড় বাণিজ্যিক চাপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর ফের বড় চাপ তৈরি করল আমেরিকা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং মস্কোর তেল-গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিল শুক্রবার মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) রাশিয়ার জ্বালানি কেনা পাঁচ বৃহৎ দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবেন।

তবে এখনই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপছে না আমেরিকা। সেনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি এ বার হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস (House of Representatives)-এ যাবে। দুই কক্ষে অনুমোদন মিললে তবেই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পালা। ট্রাম্প সই করে আইন কার্যকর করলে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

নতুন আইনের লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্বে আঘাত করা। আমেরিকার যুক্তি, রুশ তেল ও গ্যাস কিনে যে দেশগুলি মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তারা পরোক্ষ ভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থ জোগাতে সাহায্য করছে। সেই কারণেই বড় ক্রেতাদের উপর বাণিজ্যিক চাপ তৈরির পথ খুলতে চাইছে ওয়াশিংটন।

এই বিলের আওতায় প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহৎ ক্রেতা দেশের আমেরিকায় রফতানি হওয়া পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। অর্থাৎ ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি সরাসরি রুশ তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত হলেও, সম্ভাব্য শুল্ক চাপ পড়বে আমেরিকার বাজারে ঢোকা ভারতীয় পণ্যের উপর।

সেনেটে বিলটি পাস হওয়ার আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে জোর আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের ভোটাভুটিতে ৮৬ জন সেনেটর বিলের পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ছিলেন ১১ জন। দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপরও চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নজরে ভারত ও চিন। রাশিয়ার তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চিন এবং তার পরেই রয়েছে ভারত। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি কেনার তালিকায় থাকা আরও কয়েকটি দেশও সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের আওতায় আসতে পারে। নতুন আইনের কাঠামোতে পাঁচ বৃহৎ আমদানিকারককে লক্ষ্য করার কথা বলা হয়েছে।

রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে ওয়াশিংটন। সেনেটে বিল পাস হওয়ার পর মার্কিন আইনপ্রণেতারাও ইউক্রেনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, মস্কোর যুদ্ধের অর্থ জোগানোর পথ বন্ধ করতেই রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের উপর চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।

ভারতের জন্য এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্ন। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে অপরিশোধিত তেল কেনা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন আইন কার্যকর হলে নয়াদিল্লিকে একদিকে মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ, অন্যদিকে দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা—দুই দিকই সামলাতে হবে।

এই বিষয়ে ভারত আগেই জানিয়েছিল, আমেরিকার প্রস্তাবিত আইনটির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নয়াদিল্লির অবস্থান ছিল।

ফলে আপাতত ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি থাকলেও তা ভারতের উপর কার্যকর হয়নি। এখন মূল নজর মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের দিকে। সেখানে বিলটির ভবিষ্যৎ কী হয় এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সেটিতে সই করেন কি না, তার উপরই নির্ভর করবে রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর বাস্তবে কতটা মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন