ভারতের পূর্ণাঙ্গ ভূখণ্ড দেখানো মানচিত্র প্রকাশের পর মাত্র চারদিনের মাথায় সেটি সরিয়ে নেওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। পাকিস্তানের আপত্তির পরই কি আমেরিকা অবস্থান বদলাল—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতির পর আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের দফতর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের পাশাপাশি পাক-অধিকৃত কাশ্মীর এবং আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। কূটনৈতিক মহলে একে দিল্লির বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।
কারণ, অতীতে আমেরিকার প্রকাশিত অধিকাংশ মানচিত্রেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও আকসাই চিনকে ভারতের বাইরে দেখানো হয়েছে। ফলে নতুন মানচিত্রে এই দুই অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানোয় তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল।
তবে প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যেই সেই মানচিত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি দাবি করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মানচিত্রটি দেখার পরই তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁদের বক্তব্য, ওই মানচিত্র ‘ভুল’ ছিল এবং রাষ্ট্রসংঘের মানচিত্র অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাকিস্তানের আপত্তির পরই আমেরিকা মানচিত্র সংশোধন করেছে বলে ইসলামাবাদ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বারবারই জানানো হয়েছে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে ওই অঞ্চল-সহ সম্পূর্ণ মানচিত্র প্রকাশকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
কিন্তু হঠাৎ করে মানচিত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের আপত্তিকেই কি গুরুত্ব দিল ওয়াশিংটন? বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হবে।



