নজরবন্দি ব্যুরোঃ জারি ‘মার্শাল ল’, সম্পূর্ণ বদল ঘটে গেছে মায়ানমারের গণতন্ত্রে। গনতান্ত্রিক সরকারের উচ্ছেদ ঘটিয়ে সম্পুর্ন মায়ানমারের দখল নিয়েছে ‘জুন্টা’। সেনাবাহিনীর বন্দী করেছে নোবেলজয়ী রাষ্ট্রপ্রধান আং সান সু কি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট-সহ অনেকেই। সেনাভিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আগামী একবছর মায়ানমারের শাসন ক্ষমতার রাশ নিজেদের হাতেই রাখছেন তাঁরা। দেশের সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিছহেন না এই পরিস্থিতি।
আরও পড়ুনঃ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির, আলোচনায় উঠল ইন্দো-প্যাসিফিক প্রসঙ্গ!
এই বেহাল অবস্থার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন গনতন্ত্রকামী মানুষেরা। আর দেশের এই ডামাডোল পরিস্থতি সামাল দিতে ‘মার্শাল ল’ জারি হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। আর গণতন্ত্রকে এভাবে উচ্ছেদ করার ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কার্যত একলা হয়ে পড়ছে মায়ান্মার সেনা দল। এবার মায়ানমারের জনগনের পাশে থাকার বার্তা পাঠিয়েছে আমেরিকা। গত নির্বাচনে ৪২৫ টি আসনের মধ্যে ৩৪৬ টি আসন জিতে ফের ক্ষমতায় ফিরেছিল আং সান সু কি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি।
ক্ষমতায় ফিরলেও রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে বিগত দিনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় সু কি সরকারের। তাঁর পরেই গত নির্বাচনে বিস্তর কারচুপি হয়েছে বলে করোনা আবহের মধ্যেই ফের দেশের ক্ষমতা দখল করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। কিন্তু জোর করে দেশের ক্ষমতা দখল করলেও,দেশে, দেশের বাইরে কনখানেই পুর্ন সমর্থন পাচ্ছে না সেনাবিহিনী।
জারি ‘মার্শাল ল’, দেশের এই গণতন্ত্রের উচ্ছেদে চিন ছাড়া সকল দেশ বিপক্ষে যাচ্ছে ‘জুন্টা’র। প্রায় সকল দেশই দ্রুত মুক্তির দাবী জানাচ্ছে সু’কির। দেশের ভেতরেই একাধিক শহরের জনগন বিক্ষোভে নেমেছেন রাস্তায়। দিনরাত বিক্ষোভে তাঁরা ফেরত চাইছেন দেশের গণতন্ত্রের। বিক্ষোভ রুখতে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করেছে সেনা। ফেসবুক, টুইটার-সহ সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইতিমিধ্যে। এক জায়গায় পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতের অনুমতি পাচ্ছেনা দেশবাসী।
মায়ানমারের এই জটিল পরিস্থিতিতে এবার বার্মার পাশে থাকার বার্তা দিলো মার্কিন মুলুক। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, “আমরা বার্মার জনগণের পাশে আছি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে সমর্থন দেখানোর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে তাদের। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।” মার্কিন মুলুকের এই বার্তার পর ওয়াকিবহাল মহল এও মনে করছেন মায়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে আমেরিকা।



