এয়ার স্ট্রাইকের পর স্থলসেনা? ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কৌশলী বার্তা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে জল্পনা

রিয়াধে দূতাবাসে ড্রোন হামলার অভিযোগের পর ট্রাম্পের কড়া বার্তা; ইরানে পদাতিক সেনা পাঠানো নিয়ে ‘প্রয়োজনে দ্বিধা নেই’ ইঙ্গিত, বাড়ছে যুদ্ধ জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে আমেরিকা। ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানের পর ইরানে কি এবার স্থলসেনা নামাতে চলেছে ওয়াশিংটন? সৌদি আরবের রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে হামলার অভিযোগের পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ খুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন—“হয়তো তার প্রয়োজন পড়বে না… তবে যদি প্রয়োজন হয়, আমরা পিছপা হব না।”

ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ অভিযানের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছে Iran—এমনই দাবি ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মহলের। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Khamenei-র মৃত্যু নিয়েও নানা দাবি ঘুরছে আন্তর্জাতিক মহলে, যদিও তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্পষ্ট নয়। একইসঙ্গে ইরানের পালটা হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।

এর মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী Riyadh-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে জ্বলন্ত দূতাবাস ভবনের ছবি দেখা গেলেও, তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি প্রশাসনের দাবি, ভবনের ক্ষতি হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। ইরানের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তাঁর হুঁশিয়ারি, “এই হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। কীভাবে দেওয়া হবে, বিশ্ব দেখবে।” সেই সুরেই স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও কৌশলী মন্তব্য করেন তিনি। আগের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, সরাসরি পদাতিক সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর মনে হয়। তবে এবার তিনি স্পষ্ট করেছেন—“সব প্রেসিডেন্ট বলেন সেনা নামানোর প্রয়োজন নেই। আমি তা বলি না। আমি বলি, হয়তো প্রয়োজন নেই, অথবা যদি প্রয়োজন পড়ে।”

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য আসলে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানো না হলেও, সম্ভাবনার দরজা খোলা রেখে ওয়াশিংটন তেহরানের উপর মানসিক ও কৌশলগত চাপ বাড়াতে চাইছে।

রিয়াধের ঘটনার পরই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি বৃহত্তর সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস? নাকি কেবলই কৌশলগত বার্তা?

যুদ্ধের আবহে আপাতত নিশ্চিত একটাই—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ নামার কোনও লক্ষণ নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন